• ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিয়োগের তথ্য নেই মন্ত্রণালয়ে, সিসিকে দায়িত্বে একলিম

sylhetcrimereport
প্রকাশিত মে ২৪, ২০২৬
নিয়োগের তথ্য নেই মন্ত্রণালয়ে, সিসিকে দায়িত্বে একলিম

নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন। তবে বিস্ময়কর হলেও সত্য, তার নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো তথ্যই নেই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিটি কর্পোরেশন শাখার নথিতে। এ অবস্থায় তিনি কোন ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সরকারি বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক মহলে।
এ ঘটনায় একলিম আবদীনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। গত শনিবার জারি করা ওই নোটিশে তাকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. সগীর হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে মোহাম্মদ একলিম আবদীন সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু কী ভিত্তিতে তিনি ওই পদে নিয়োগ পেয়েছেন, কীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং কোন প্রক্রিয়ায় সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন—সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নথিতে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি স্পষ্ট করতে তাকে সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ-এর নিকট উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শাতে হবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
এদিকে, সিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, একলিম আবদীন দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্জ্য শাখায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বর্জ্যবাহী গাড়ির তেল চুরি, সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি ভাড়ায় ব্যবহার, বিভিন্ন এলাকায় মাটি ভরাট কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহার, ডে-লেবারের উপস্থিতি বাড়িয়ে অতিরিক্ত বিল উত্তোলনসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, এ সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য হিসেবে বর্জ্য সুপারভাইজার ফারুক ও গাড়িচালক পিচ্চি বাবুলের নামও আলোচনায় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে নগরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
বর্জ্য শাখার এসব অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পরই মূলত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় একলিম আবদীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয় বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগে নাম আসলেও রহস্যজনক কারণে এখনো ফারুক ও পিচ্চি বাবুলের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন বলেন, “এ বিষয়ে সিইও মহোদয়ের কাছ থেকে তথ্য নিতে হবে। আমার দপ্তরে সংশ্লিষ্ট কোনো চিঠি পৌঁছেনি।”
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
তবে সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী স্থানীয় সরকার বিভাগের শোকজ নোটিশের বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরে বলেন, “একলিম আবদীনের নিয়োগ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র রয়েছে। বিষয়টি যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা সঠিক