
সিকারি ডেস্ক:: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় কলাগাছ পড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় নারী ও বৃদ্ধসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বৃদ্ধের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের গন্ধর্ব্বপুর (আলী নগর) গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
আহতরা হলেন— মৃত সুনা উল্লাহর ছেলে আব্দুল গফুর, ওয়াব উল্লাহর মেয়ে আলেয়া বেগম, আব্দুল গফুরের মেয়ে রুবেনা বেগম, জুমা বেগম ও কুশবা বেগম। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদেরকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গন্ধর্ব্বপুর (আলী নগর) গ্রামের আব্দুল গফুরের একটি কলাগাছ ঝড়ের কারণে পাশের জমিতে পড়ে যায়। ওই জমি দেখভালের দায়িত্বে থাকা বাবুল মিয়ার পক্ষের লোকজন এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আব্দুল গফুরের বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়। সে সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় চারজন নারীসহ পাঁচজনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে জানা যায়। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
আব্দুল গফুরের বড় মেয়ে রুনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে বাবুল মিয়ার লোকজন আমার পরিবারের ওপর কুনজর দিয়ে আসছে। আজ দুপুরে কলাগাছ জমিতে পড়াকে কেন্দ্র করে তারা আমার বাবার বসতঘরে প্রবেশ করে এবং আমার বাবা, মা ও বোনদের দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে।
তিনি বলেন, হামলাকারীরা আমাদের বাড়িতে থাকা ৫ ভরি সোনা ও নগদ দুই লক্ষ টাকা নিয়ে গেছে। আমার বোনদের তারা বিভিন্নভাবে আঘাত করেছে। আমার বাবার মাথায় রামদা দিয়ে আঘাত করেছে। আমার কোনো ভাই বাড়িতে না থাকায় তারা আজ এ কাজ করল। আমি বর্তমান সরকারের কাছে এর বিচার চাই।
এ ব্যাপারে নিজে বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানান রুনা বেগম। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত বাবুল মিয়ার লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মারামারির ঘটনায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।