• ১৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গোয়াইনঘাটে পরিবেশ ধ্বংসকারী আলী হোসেন গ্রেফতার, বাদিকে হুমকি, আতঙ্কে পরিবার

sylhetcrimereport
প্রকাশিত মার্চ ১৮, ২০২৬
গোয়াইনঘাটে পরিবেশ ধ্বংসকারী আলী হোসেন গ্রেফতার, বাদিকে হুমকি, আতঙ্কে পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়াইনঘাট :: সিলেটের গোয়াইনঘাটে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টি করা কথিত বালু সিন্ডিকেটের মূলহোতা আলী হোসেন (৪০) অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে বাউরবাগ হাওর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ। তিনি মধ্যজাফলং ইউনিয়নের বাংলা বাজার গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আলী হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে হাওর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। শুধু তাই নয়, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করা হতো। রাজনৈতিক ছত্রছায়া থাকায় এতদিন কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি বলেও দাবি এলাকাবাসীর।

পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে বাউরবাগ হাওরের বাসিন্দা জুয়েল মিয়া সাহস করে গোয়াইনঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ভিত্তিতেই এসআই মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আলী হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
গোয়াইনঘাট থানার ওসি (তদন্ত) কবির হোসেন বলেন, “মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

তবে গ্রেফতারের পরই থেমে নেই সিন্ডিকেট। অভিযোগ উঠেছে, প্রথমে প্রভাব খাটিয়ে থানা পর্যায়ে তদবির চালানো হয়। ব্যর্থ হয়ে এখন মামলার বাদী জুয়েল মিয়াকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগী জুয়েল মিয়া বলেন, “গ্রেফতারের পর থেকেই আমাকে ও আমার পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।”

দীর্ঘদিন পর সিন্ডিকেট প্রধান গ্রেফতার হওয়ায় এলাকাজুড়ে স্বস্তি ফিরলেও, বাদিকে হুমকির ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি—শুধু একজনকে গ্রেফতার করলেই হবে না, পুরো সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে জড়িত সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।