• ২০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সুনামগঞ্জ সদর ওসির পোস্টে সমালোচনার ঝড়, সাংবাদিকদের অবমাননার অভিযোগ

sylhetcrimereport
প্রকাশিত মার্চ ১৯, ২০২৬
সুনামগঞ্জ সদর ওসির পোস্টে সমালোচনার ঝড়, সাংবাদিকদের অবমাননার অভিযোগ

সংগৃহিত

সিকারি ডেস্ক:: সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢালাও মন্তব্য করে পুরো সাংবাদিক সমাজকে বির্তকিত ও হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন।

সম্প্রতি ওসি রতন শেখ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি ধোপাজান নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানের কথা উল্লেখ করে লিখেন, “একজন সাংবাদিক ভাইয়ের তদবির। ধোপাজান নদী থেকে হেফাজতে নেয়া বড় নৌকাটি বাদ দিয়ে তার পাঠানো ছোট নৌকাটি জব্দ দেখানোর প্রস্তাব দেয়। হতে পারে পুলিশকে ব্লাকমেইল, হতে পারে অবৈধ লাভের আশায়। তবে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ একেবারেই কঠোর ধোপাজান নদী রক্ষায়। তবে সুনামগঞ্জ শহরের বেশিরভাগ সাংবাদিক ভাই তথ্য দিয়ে পুলিশের অভিযানে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন দিনরাত…”

ওসির এই পোস্টটি জনসম্মুখে আসার পর থেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদকর্মীদের দাবি, যদি কোনো তথাকথিত সাংবাদিক অবৈধ তদবির করে থাকেন, তবে তার নাম প্রকাশ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া পুলিশের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু তা না করে অপরাধীকে আড়াল রাখা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্পষ্টভাবে ‘সাংবাদিক’ শব্দ ব্যবহার করে পোস্ট দেওয়া মূলত সৎ ও পেশাদার সাংবাদিকদের ইমেজ নষ্ট করার একটি অপকৌশল।

সুনামগঞ্জের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মতে, ধোপাজান নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন এবং পাথর লুটপাটের সাথে জড়িত মূল হোতাদের আটক করতে না পেরে ওসি এখন দৃষ্টি ঘোরানোর জন্য সাংবাদিকদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছেন। কোনো সুনির্দিষ্ট নাম ছাড়া এমন পোস্ট পেশাদার সাংবাদিকদের সামাজিকভাবে লাঞ্ছিত করছে।

এই ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকরা ওসির এমন অপেশাদার আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, পুলিশ যদি সত্যিই কঠোর হয়, তবে তদবিরকারীকে সাথে সাথে আটক করা হলো না কেন? অপরাধীকে প্রশ্রয় দিয়ে সাংবাদিকদের ঢালাওভাবে ছোট করার পেছনে ওসির অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের কাছে।