
সিকারি ডেস্ক:: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ওঠা মানবপাচারের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী হানিফ মিয়া দাবি করেছেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার এবং প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে প্রকৃত পাচারকারীদের তালিকা ও তথ্য তুলে দিতে তিনি প্রস্তুত রয়েছেন।
উপজেলার স্টেশন বাজারের ব্যবসায়ী হানিফ মিয়াকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে বেশ কিছু পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। ওইসব পোস্টে দাবি করা হয়, তিনি একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এবং এর মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন। বিষয়টি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে হানিফ মিয়া বলেন, “একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে আমার ব্যবসায়িক ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি কোনোভাবেই এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই।”
তিনি আরও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “প্রকৃত মানবপাচারকারী কারা এবং কারা এই চক্র পরিচালনা করছে, সে বিষয়ে আমার কাছে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও তালিকা রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রশাসন চাইলে আমি তাদের হাতে এই তালিকা হস্তান্তর করতে প্রস্তুত আছি।”
এদিকে, ব্যবসায়ী হানিফ মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং পাল্টা চ্যালেঞ্জ নিয়ে বর্তমানে জৈন্তাপুরজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সচেতন মহল মনে করছেন, মানবপাচারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ধোঁয়াশা থাকা কাম্য নয়। হানিফ মিয়ার কাছে যদি কোনো তথ্য থেকে থাকে, তবে তদন্তের স্বার্থে প্রশাসনের উচিত তা খতিয়ে দেখা।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও স্থানীয়দের দাবি- গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা হোক। একইসাথে যারা অবৈধ মানবপাচারের সাথে জড়িত এবং যারা গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, উভয় পক্ষকেই আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।