• ৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিলেটে গ্রেফতার হওয়া দুই ডাকাত ‘আনসার সদস্য নন’!

sylhetcrimereport
প্রকাশিত জুন ২৯, ২০২৬
সিলেটে গ্রেফতার হওয়া দুই ডাকাত ‘আনসার সদস্য নন’!

সিকারি ডেস্ক:: সিলেটে আনসার পরিচয়ে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেফতার হওয়া দুই ডাকাত বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কোনো সদস্য নন বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। সোমবার (২৯ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে জালালাবাদ থানার সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে আনসার পরিচয়ে গাড়ি থামিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সাইফ আহমদ রাজ (২০) ও আকসান হাবিব (২২) নামে দুই ডাকাতকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারের পর এ তথ্য নিশ্চিত করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো: মনঞ্জুরুল আলম।

জালালাবাদ থানা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে জালালাবাদ থানার সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের জাঙ্গাইল পয়েন্ট ও সফির উদ্দিন হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের মধ্যবর্তী কালভার্টের ওপর কয়েকজন ব্যক্তি আনসার সদস্য পরিচয়ে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন তল্লাশি করছে। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি সেট, আনসার ভিডিপি লেখা জলপাই রঙের একটি বুলেটপ্রুফ ভেস্ট, দু’টি চাবিসহ একটি হ্যান্ডকাফ, একটি আনসার ভিডিপির পরিচয়পত্র ও দু’টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

গ্রেফতার হওয়া সাইফ আহমদ রাজিসিলেট নগরীর কোতোয়ালি থানার বাগবাড়ি এতিম স্কুল-সংলগ্ন সালেহ টাওয়ারের বাসিন্দা মরহুম এজাজ আহমদের ছেলে এবং আকসান হাবিব জালালাবাদ থানার পীরপুর এলাকার হেলাল উদ্দিনের ছেলে বলেও জানায় পুলিশ।

এদিকে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ‘সিলেটে আনসার পরিচয়ে ব্যারিকেড দিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি, গ্রেফতার ২’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পর বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী তাৎক্ষণিক অনুসন্ধান চালায়। অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ডাকাতির অভিযোগে গ্রেফতার সাইফ আহমেদ রাজ ও আসকান মিয়া বাহিনীর কোনো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, তালিকাভুক্ত বা কর্মরত সদস্য নন।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সাইফ আহমেদ রাজ নিজ উদ্যোগে একটি বুলেটপ্রুফ ভেস্ট তৈরি করে তাতে ‘আনসার-ভিডিপি’ লিখে ব্যবহার করতেন। এ ছাড়া তার ব্যবহৃত স্মার্ট পরিচয়পত্র যাচাই-বাছাই শেষে সম্পূর্ণ ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে।

বাহিনী জানায়, পুলিশের জব্দ করা ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাফ, দুটি চাবি ও মোবাইল ফোন তিনি ব্যক্তিগতভাবে সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি সিলেট জেলার কোতোয়ালি থানার বাগবাড়ি এলাকার এতিম স্কুল রোডের ছালেহা টাওয়ারে কয়েক মাস ধরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাইফ আহমেদ রাজ প্রায়ই আনসার ও ভিডিপির পোশাক পরে চলাফেরা করতেন এবং নিজেকে আনসার সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন। তবে তার সঙ্গে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কোনো সাংগঠনিক বা প্রশাসনিক সম্পর্ক নেই।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সম্প্রতি কিছু অসাধু ব্যক্তি অননুমোদিতভাবে বাহিনীর ইউনিফর্ম, পরিচয়পত্র ও পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করছে, যা জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকিস্বরূপ।

এ অবস্থায় জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বাহিনী বলেছে, ইউনিফর্ম, পরিচয়পত্র বা বাহিনীর সরঞ্জাম ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি সন্দেহজনক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে মনে হলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করতে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং বাহিনীর সুনাম ও পেশাদারিত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে সর্বদা বদ্ধপরিকর।