অসুস্থ ব্যক্তিকে ‘ভুয়া চালক’ বানিয়ে গাড়ি জামিন, সিলেটে সক্রিয় প্রতারক চক্র

sylhetcrimereport
প্রকাশিত August 13, 2026
অসুস্থ ব্যক্তিকে ‘ভুয়া চালক’ বানিয়ে গাড়ি জামিন, সিলেটে সক্রিয় প্রতারক চক্র

সিকারি ডেস্ক:: সিলেটে জবরদখল ও জব্দকৃত গাড়ি ভুয়া ড্রাইভার সাজিয়ে জামিনে ছাড়িয়ে নেওয়ার প্রতারক ও জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শারীরিক অসুস্থ ও কিডনি রোগে আক্রান্ত এক ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও নাম-ঠিকানা জাল করে আদালতের মাধ্যমে গাড়ি জামিনে ছাড়িয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

গত ৬ আগস্ট সিলেট অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সিলেট মহানগরের শাহপরান (রহঃ) থানাধীন গইলাপাড়ার বাসিন্দা মোঃ ছালেক আহমদ (৩২)। আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে আগামী ১ নভেম্বর তারিখের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ সুপার, পিবিআই  সিলেটকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে আইনজীবী সহকারী (মুহুরি) পরিচয়ধারী প্রতারক চক্রের মূল হোতা জামাল আহমদ (২৫)-কে। অন্যান্য আসামিরা হলেন জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুরের বালিপাড়া গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে জামাল আহমদ (২৫), শ্যামপুরের ফখরুল ইসলামের ছেলে ফয়সল আহমদ (৩০), গোয়াইনঘাট উপজেলার নয়ামাটি (বর্তমানে লামা শ্যামপুর, জৈন্তাপুর) লোকমান আহমদ ওরফে ওয়ালটন লোকমানের স্ত্রী নুর জাহান আক্তার নূরী (২৮), এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাদী মোঃ ছালেক আহমদ দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি পেশায় কোনো ড্রাইভার নন এবং কোনো দিন গাড়ি চালাননি।

অভিযোগে বলা হয়, ১ নং আসামি জামাল আহমদ একজন চিহ্নিত প্রতারক ও জালিয়াতি চক্রের সদস্য। তিনি বিভিন্ন মামলায় থানা বা পুলিশের হাতে আটককৃত বা জব্দকৃত গাড়ি জামিনে ছাড়ানোর কথা বলে মূল মালিক ও ড্রাইভারের নাম-ঠিকানা গোপন করেন। পরবর্তীতে নির্দোষ মানুষের ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে আদালতে দাখিল করে গাড়ি জামিনে মুক্ত করেন।

একইভাবে ২ নং আসামি ফয়সল আহমদের মালিকানাধীন পিকআপ (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: সিলেট মেট্রো ন-১১-২২৫৫; শাহপরান জি.আর মামলা নম্বর: ৪০/২৫) এবং ৩ নং আসামি নুর জাহান আক্তার নূরীর পিকআপ (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা মেট্রো ন-২০-৮৯১৩; শাহপরান জি.আর মামলা নম্বর: ১৫৭/২৫)—এই দুটি গাড়ি আদালতের মাধ্যমে জামিনে ছাড়ানোর জন্য চক্রটি অসুস্থ ছালেক আহমদের এনআইডি ও ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে তাকে ড্রাইভার সাজায়।

পরবর্তীতে বাদী বিষয়টি লোকমারফতে জানতে পেরে ১ ও ২ নং আসামির কাছে জানতে চাইলে, গত ০৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আদালত প্রাঙ্গণে আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। বর্তমানে বাদী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও আমলী আদালত নং-১, সিলেটের বিচারক ফারহানা সুলতানা দ্য কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিউর ২০০ ধারা অনুযায়ী বাদীর জবানবংশী রেকর্ড করেন। পরবর্তীতে মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ২০২ ধারা অনুযায়ী পিবিআই-কে নির্দেশ প্রদান করেন এবং আগামী ০১/১১/২০২৬ তারিখের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। (মামলা নং: কোতোয়ালী সি.আর ৯৭২/২০২৬)।