
সিকারি ডেস্ক:: সিলেটের রাজপথে পুলিশ হকার লুকোচুরি চলছেই। খেলাটা অনেকে পুরানো। কখনো তা বন্ধ হলেও তা হয় অনেকটা বিরতির মতো। পরে আবার যথাসময়ে শুরু হয়ে যায়।
সিলেট রাজপথ এবং ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদের দাবি অনেক পুরানো। এই দাবিতে নগরীতে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে। আবার হকারদের পক্ষেও মিছিল সভা হয়েছে। এমনকি সাবেক একজন মেয়র হকারদের হামলারও শিকার হয়েছিলেন। বিকল্প ব্যবস্থা করে দেওয়ার পরেও হকার উচ্ছেদের স্বপ্ন কেবল স্বপ্নই থেকে গেছে, বাস্তব আর হয়নি।
২০২৪ এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সিলেটের রাজপথের প্রায় ৫০ ভাগ হকাররা দখল করে দিব্যি বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছিল। এ অবস্থায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনার সিলেটের শুধিজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে হকারদের রাজপথ ছেড়ে দেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর প্রশাসন হার্ডলাইনে যায়।
অবশ্য তার আগে হকারদের লালদিঘীরপাড়ে পূণর্বাসনের সিদ্ধান্ত কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে লক্ষ্যে সেখানকার সুযোগ সুবিধাও বৃদ্ধি করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু এতকিছুর পরও হকাররা ছিল বেপরোয়া। তাদের মধ্যে কেউ কেউ লালদিঘীরপাড়ে গেলেও বেশির ভাইগ থেকে রাজপথ বা ফুটপাতে।
এক পর্যায়ে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করে। অনেককেই আটক করে আদালতে সোর্দ করা হয়। অনেক জিনিসপত্র জব্দ করে নিলামেও তোলা হয়েছে।
কিন্তু এতকিছুর পরেও হকাররা থাকে সুযোগের অপেক্ষায়। তারা কৌশলী হয়ে অবস্থান নেয় ফুটপাত-রাজপথে। কৌশলটা এমন, কয়েকজন হকার মিলে একাধিক লোক নিয়োগ দিতেন পুলিশ বা প্রশাসন আসছে কি না তা দেখার জন্য।
হঠাৎ পুলিশ আসার খবরে তারা পঙ্গপালের মতো ছোটো ছোটো ঠেলাগাড়িতে সাজানো পণ্য নিয়ে ছুটতেন নিরাপদ আশ্রয়ে। অতিসম্প্রতিও এমন দৌড়ঝাঁপ দেখা গেছে।
রবিবার সরজমিনে সিলেটের জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, বন্দরবাজার, কোর্ট পয়েন্ট, সিটি পয়েন্ট, কিনব্রিজের উত্তরপ্রান্তের চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন শতাধিক হকার।
ছোটো ছোটো ঠেলা ও ভ্যান গাড়িতে কাপড়চোপড়, তরিতরকারি, সব্জি, ফলমুল থেকে শুরু করে টুথব্রাশ টুথপেস্ট নিয়ে বসেছেন তারা। ফুটপাত দখলের পর তারা রাজপথের প্রায় অর্ধেক দখল করে বসে আছেন সেই পুুরানো দিনের মতো।
রকিব (৪৫) নামের একজন হকার হজানালেন, পুলিশ আসে। খবর পেলে দৌড়াই। দৌড়াতে হয়। কি করমু ভাই। বাঁচতেতো অইবো।
লালদিঘীরপাড় হকার্স মার্কেটে যাচ্ছেন না কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লাভ নাই। কাষ্টমার যায়না। কোনো লাভ হয়না।
এ ব্যাপারে সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকাল তিনটার দিকে নগরভবনে বসে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, অভিযান চলছে। পাশাপাশি আমরা লালদিঘীরপাড়ে সুযোগ সুবিধা আরও বাড়িয়েছি। তবে তারা সেখানে যেতে চায়না।
তবে তিনি জানান, গত কয়েকদিন আগে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ পুলিশ কমিশনারও ছিলেন। সেখানে অবৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড এবং হকার উচ্ছেদের ব্যাপারে আরও কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদের পূণর্বাসনের বিষয়টি একটি চলমান প্রক্রিয়া।
এদিকে হকারদের বিরুদ্ধে পুলিশি তৎপরতা স্থবির কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো.মনজুরুল আলম বলেন, অভিযাচন চলছে। প্রায় প্রতিদিনই আমরা অভিযান চালাচ্ছি। রবিবারের অভিযানেও কয়েকজন হকারকে আটক করা হয়েছে।
তবে তিনিও স্বীকার করেন, অভিযান চলমান থাকা অবস্থায় হকাররা দৌড়ে আাড়ল হয়ে যায়, পরে আবার ফিরে আসে। তবে আমরা কঠোর।