
সিকারি ডেস্ক:: ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সিলেটে পৃথক তিনটি ঘটনায় চারজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে জকিগঞ্জে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ ও তার চার বছরের শিশুকন্যার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সদর উপজেলার জালালাবাদে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর নগরীর রেলস্টেশন এলাকা থেকে বস্তাবন্দি এক ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার সন্ধ্যায় জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের বুরহানপুর গ্রামের দাশপাড়ায় নিজ বসতঘর থেকে চম্পা রাণী দাশ (৩৫) ও তার চার বছরের মেয়ে হৃদি দাশের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চম্পা রাণী দাশ শাহগলী বাজারের জুয়েলারি ব্যবসায়ী রতন দাশের স্ত্রী। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ওই গৃহবধূ অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতর মা-মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে বারহাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী ঘটনাস্থলে যান এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তিনি ছুটিতে থাকায় ওসি (তদন্ত) মো. সুজন মিয়াসহ পুলিশের একটি দলকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।
ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জকিগঞ্জ সার্কেল) শ্যামুয়েল সাংমা বলেন, নিহতের স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের বিষয়টি সামনে এলেও কী কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে শনিবার বিকেলে সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের নলকট গ্রামের একটি বসতঘর থেকে আল-আমিন (৩০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে জালালাবাদ থানা পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের আলী আসকরের ছেলে।
পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুরের দিকে স্বজনরা নিজ শয়নকক্ষে আল-আমিনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহালের সময় তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামছুল হাবিব বলেন, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে, আল-আমিন প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন। প্রায় এক মাস আগে তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঢাকায় চলে যান। এরপর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
অপরদিকে, শুক্রবার সকালে সিলেট রেলস্টেশন এলাকার বাস টার্মিনালের কাছে রাস্তা পরিষ্কারের সময় একটি পা দেখতে পান পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দি একটি মরদেহ উদ্ধার করে। পরিচয় শনাক্তের পর জানা যায়, মরদেহটি ভ্রাম্যমাণ কাঁচামাল ব্যবসায়ী লায়েছ মিয়ার (৩৪)। তিনি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া এলাকার আঙ্গুর মিয়ার ছেলে।
লায়েছ মিয়া সিলেট নগরীর শামিমাবাদ এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে মৌসুমি ফল ও সবজি বিক্রি করতেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তাকে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে রেলস্টেশন এলাকার বাস টার্মিনালের কাছে ফেলে রাখা হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মঞ্জুরুল আলম বলেন, মরদেহের সুরতহালে গলা, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল ও নিহতের ভাড়া বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে হত্যার কারণ বা কারা এর সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
একই সময়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় চারজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনটি ঘটনারই প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।