
সিকারি ডেস্ক: বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে উপজেলা ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন পুলিশ কনস্টেবল মো. সহিদুল ইসলাম।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেলে তিনি রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি পেশ করেন।জবানবন্দিতে সহিদুল ইসলাম বলেন, আগৈলঝাড়া থানা এলাকার ওই ‘ক্রসফায়ার’ পরিচালনায় স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা রাজি না হওয়ায় উজিরপুর থানা থেকে দুই এএসআইকে আনা হয়েছিল। তাদের মাধ্যমেই দুই ব্যক্তিকে হত্যা করা হয় বলে তিনি জানতে পারেন।মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন এবং বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ।হাসানাত আবদুল্লাহ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই। আসামিদের মধ্যে মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেফতার আছেন।বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার দুজন হলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা। রাজনৈতিকভাবে তাদের মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করেন হাসানাত আবদুল্লাহ।অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।জবানবন্দিতে কনস্টেবল মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি বরিশাল জেলা পুলিশ লাইনের মোটরযান শাখায় কর্মরত ছিলেন। এর আগে কিছুদিন উজিরপুর থানায় ড্রাইভার কনস্টেবল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেতিনি বলেন, ‘২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে আমি পুলিশ লাইনের মোটরযান শাখায় আসি। অফিসে আসার পর সিনিয়র স্যারদের ড্রাইভার ও বডিগার্ডদের মাধ্যমে জানতে পারি, আগের রাতে আগৈলঝাড়া থানা এলাকায় দুটি ক্রসফায়ার হয়েছে।’
সহিদুল ইসলাম আরও বলেন, ‘দুই-একদিন পর আগৈলঝাড়া থানায় কর্মরত এএসআই রাজুর সঙ্গে আমার কথা হয়। এএসআই রাজু আমাকে জানান, যে ক্রসফায়ার হয়েছে, সেটি করতে আগৈলঝাড়া থানার কোনো অফিসার ও ফোর্স রাজি না হওয়ায় পুলিশ সুপার উজিরপুর থেকে দুইজন এএসআই নিয়ে এসেছেন। তাদের মাধ্যমেই ওই ক্রসফায়ার হয়েছে।’পরে আঞ্চলিক পত্রিকার মাধ্যমে ক্রসফায়ারে নিহত ব্যক্তিদের নাম জানতে পারেন বলে জানান তিনি। তারা হলেন কবির মোল্লা ও টিপু হাওলাদার।
সাক্ষী বলেন, এএসআই রাজু তাকে জানিয়েছিলেন, উজিরপুর থানা থেকে যে দুই এএসআই ওই ক্রসফায়ারে অংশ নিয়েছিলেন, তারা হলেন মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন।জবানবন্দিতে সহিদুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, ওই সময়ে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে এ কে এম এহসানউল্লাহ কর্মরত ছিলেন।