
সিকারি ডেস্ক:: সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তে অবৈধভাবে ভারতে মানব পাচারের চেষ্টার ঘটনায় শীর্ষ পাচারকারী শাহেদ আহমদ লিটন ওরফে বাবলা লিটনকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বাবলা লিটনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে বুধবার গোয়াইনঘাট থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন তামাবিল সীমান্ত ফাঁড়ির নায়েব সুবেদার মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের নলজুড়ী এলাকার খাসিয়া হাওড় সংলগ্ন মেইন পিলার ১২৭৮/৪-এস এলাকার ভারতীয় অংশে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। খবর পেয়ে বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
অভিযোগে বলা হয়, এলাকার চিহ্নিত মানব পাচারকারী বাবলা লিটনের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন নারী ও পুরুষকে পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদের চ্যালেঞ্জ করলে পাচারকারীরা বিএসএফ সদস্যদের ওপর ইট-পাথর নিক্ষেপ শুরু করে। এতে কয়েকজন বিএসএফ সদস্য আহত হলে আত্মরক্ষার্থে তারা চার রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এতে বাবলা লিটন গুরুতর আহত হন বলে বিজিবির এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় পাচারকারীরা বিএসএফের ওপর হামলার পাশাপাশি ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিজিবি সদস্যদের ওপরও ইট-পাথর নিক্ষেপ করে বাধা সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবি সদস্যরা পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিজিবির তৎপরতা শুরু হলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
তামাবিল সীমান্ত ফাঁড়ির নায়েব সুবেদার মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানান, বাবলা লিটন দীর্ঘ দিন ধরে এই সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মানব পাচার করে আসছিল। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে খোঁজ নেওয়া হলেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে তাকে গ্রেফতারে বিজিবির তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মোড়ল মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিজিবির দায়ের করা মামলায় আসামি বাবলা লিটনসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। খুব দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।