সিলেট বিভাগের সেরা ‘গুণী শিক্ষক’ নির্বাচিত লতিফা নিলুফার পাপড়ি

sylhetcrimereport
প্রকাশিত September 28, 2026
সিলেট বিভাগের সেরা ‘গুণী শিক্ষক’ নির্বাচিত লতিফা নিলুফার পাপড়ি

সিকারি ডেস্ক:: প্রাথমিক শিক্ষায় বিশেষ অবদান ও অনন্য দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ সিলেট বিভাগের ‘গুণী শিক্ষক’ নির্বাচিত হয়েছেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লতিফা নিলুফার পাপড়ি। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সিলেট কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এ কে এম সাইফুল হাসান স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

৫ অক্টোবর ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উদযাপনের অংশ হিসেবে সিলেট বিভাগের সকল জেলার প্রাথমিক শিক্ষকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে তাঁকে এই শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরানো হয়। উল্লেখ্য, বিভাগীয় পর্যায়ে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ঢাকার মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় সার্চ কমিটির মুখোমুখি হয়েছেন। আগামী ৫ অক্টোবরের আগেই জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষকদের নাম চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘ কর্মজীবনে নিষ্ঠা ও সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন লতিফা নিলুফার পাপড়ি। একজন সফল শিক্ষাবিদ হওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন প্রতিশ্রুতিশীল কবি, প্রাবন্ধিক ও কথাসাহিত্যিক হিসেবেও পরিচিত। তাঁর প্রকাশিত বেশ কয়েকটি গ্রন্থ ছাড়াও বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সমসাময়িক বিষয়ে নিয়মিত কলাম লিখে আসছেন তিনি।

বিভাগীয় সেরা শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় লতিফা নিলুফার পাপড়ি বলেন, এই স্বীকৃতি আমার একার অর্জন নয়; এটি আমার শিক্ষার্থী, সহকর্মী, অভিভাবক ও শিক্ষা পরিবারের সম্মিলিত ভালোবাসার ফসল। বিশেষ করে আমার সহকারী শিক্ষকদের ঐকান্তিক সহযোগিতা আমাকে এই পথচলায় সাহস জুগিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমি আমার বাবা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান ও মা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা ফরিদা রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত। তাঁদের পেশাগত জীবন দেখেই আমি উচ্চপদের সরকারি চাকরির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকতাকে ভালোবেসে বেছে নিয়েছি। এই সম্মান আমার অহংকার নয়, বরং দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি যেন আরও বিনয়ী হয়ে শিক্ষকতার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে পারি, সেই দোয়া ও শুভকামনা সবার কাছে প্রত্যাশা করছি।

তাঁর এই অর্জনে মৌলভীবাজারের শিক্ষা পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। সহকর্মীরা জানান, লতিফা নিলুফার পাপড়ির সৃজনশীলতা ও পাঠদানের নান্দনিক ভঙ্গি শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।