কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাতাহাতি, মারধর

sylhetcrimereport
প্রকাশিত October 14, 2026
কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাতাহাতি, মারধর

সিকারি ডেস্ক:: তাহিরপুর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন নিজ কার্যালয়ে অফিস সহকারীর মারধরে আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় ওই কর্মকর্তা নিজেই এমন অভিযোগের কথা জানান।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়েই এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে তাহিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তবে অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম মারধরের কথা অস্বীকার করে দাবি করেছেন। ঘটনা সম্পর্কে সাইফুল জানান, কর্মকর্তা আফজাল নিজেই তাঁর ওপর চড়াও হতে গিয়ে টেবিলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আঘাত পেয়েছেন।

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেনের দাবি, সম্প্রতি ঋণপ্রাপ্ত ২১ জন নারীর কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে মোট ২১ হাজার টাকা উৎকোচ নেন অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম। সাইফুল তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের চিকসা গ্রামের বাসিন্দা। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে সাইফুল তাঁর ওপর চড়াও হন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

আফজাল হোসেন আরও অভিযোগ করেন, সাইফুল নিয়মিত অফিসে আসেন না, দাপ্তরিক কাজে বাধা সৃষ্টি করেন এবং বহিরাগতদের এনে বেআইনিভাবে ঋণ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

অন্যদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, উত্তর বীরনগর গ্রামের অধিবাসীদের সঙ্গে কর্মকর্তা আফজাল হোসেনের ঘুষের টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছিল। তিনি সে বিষয়ে জানতে চাইলে আফজাল হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর ওপর চড়াও হতে তেড়ে আসেন। আত্মরক্ষার্থে তাঁকে ফেরাতে গেলে আফজাল নিজেই নিজের টেবিলের ওপর পড়ে গিয়ে আঘাত পান।

এর আগে ঘটনার দিন সকালে উপজেলার উত্তর বীরনগর সততা মহিলা উন্নয়ন সমিতির সভাপতি শাহিমা বেগম ও সম্পাদক করবুল নেছা জানান, সোমবার তাদের সমিতি অফিস থেকে ২২ হাজার টাকা পায়। মঙ্গলবার সকালে কর্মকর্তা আফজাল হোসেন তাদের গ্রামে গিয়ে টাকার ভাগ চান। তাদের অভিযোগ, উত্তোলিত টাকা তিন ভাগ করে এক ভাগ সভাপতি, এক ভাগ সম্পাদক এবং এক ভাগ অফিসের জন্য দিতে বলা হয়। তারা এতে রাজি না হওয়ায় কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ হয়ে স্থান ত্যাগ করেন।

ঘটনার সার্বিক বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম রেজাউল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অফিস সহকারী সাইফুল অত্যন্ত বেপরোয়া, তাঁকে তিন-চারবার শোকজ করা সত্ত্বেও আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। অন্যদিকে কর্মকর্তা আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধেও দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। যেখানেই যান সেখানেই তিনি এসব কাণ্ড ঘটান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও আমলে নেন না।
ওই কর্মকর্তা বলেন, তাদের এসব অনিয়মের বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। সেখানে কী ঘটেছে এ ব্যাপারে বিস্তারিত খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।