
সিকারি ডেস্ক:: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ‘বড়ডহর জলমহাল’ থেকে মাছ লুটের আশঙ্কায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বড়ডহর পোনা মজুদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি দিরাজ বিশ্বাস গত মঙ্গলবার এ অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে গন্ধর্বপুর গ্রামের আছাব মিয়ার ছেলে মুজিবুর রহমান এবং স্বজনশ্রী গ্রামের দবির মিয়ার ছেলে শাহিনুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সাল থেকে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে বড়ডহর উন্মুক্ত জলমহালটিতে মাছের পোনা মজুদ, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে আসছেন দিরাজ বিশ্বাস। চলতি মৌসুমেও প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয়ে জলমহালটিতে পোনা অবমুক্ত ও বাঁশের বেড়া (কাটা) দিয়ে মাছ চাষের উপযোগী করা হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জলমহালটি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে গত ২২ অক্টোবর রানীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী চান মিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তবে বিবাদীরা তা না মেনে উল্টো হাজী চান মিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে অপপ্রচার চালান। পরবর্তীতে গত ২৯ অক্টোবর অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে জলমহাল থেকে অবৈধভাবে মাছ লুটের চেষ্টা চালান। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য কাচা মিয়াসহ গ্রামবাসীর সহায়তায় তাদের বাধা দেওয়া হয়। এ অবস্থায় বিনিয়োগকৃত অর্থ রক্ষা ও দরিদ্র মৎস্যজীবীদের জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শাহিনুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেন, দিরাজ বিশ্বাস অবৈধভাবে বড়ডহর জলমহালে মাছ শিকার করে আসছেন। আমি তাতে বাধা দিয়েছি এবং বৈধ কাগজপত্র নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে বসতে বলেছি। কিন্তু তারা সেখানে যাননি।
এদিকে অপর অভিযুক্ত মুজিবুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ডের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।