
সিকারি ডেস্ক:: সিলেটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি কালা মিয়া প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।মামলার ২ বছরেও তার গ্রেপ্তার না হওয়ায় নানা প্রশ্ন ওঠেছে। তাঁর ছেলে সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত থাকায় থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার না করায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠেছে।
সিলেটে জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি কালা মিয়াকে ২ বছরেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তিনি রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাঁর ছেলে পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে কর্মরত থাকায় বাবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে সিলেট নগরীর মদিনা মার্কেট পয়েন্ট থেকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের সামনের এলাকা পর্যন্ত সিএনজিচালক ও সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী একজন সিএনজিচালক।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ওই এলাকায় পৌঁছালে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জন ব্যক্তি বেআইনিভাবে জড়ো হয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়। এ সময় ককটেল, বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলি ও আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় মামলার বাদী গুরুতর আহত হন।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামির তালিকায় ৭৩ নম্বরে রয়েছেন কালা মিয়া। তাঁর বাবার নাম সরু মিয়া। বাড়ি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার তুরং এলাকায়।এছাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা কালা মিয়ার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর হামকার ঘটনায় মহানগর যুবদলের তৎকালীন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল আহমদ খান বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেন
স্থানীয় সূত্রের দাবি, কালা মিয়ার ছেলে শরিফ উদ্দিন (বিপি নম্বর: ৯৯১৮২১৮৬৯০) বর্তমানে সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত। তাঁদের অভিযোগ, ছেলের পুলিশে কর্মরত থাকার প্রভাবেই কালা মিয়ার বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের তথ্য থাকলেও কালা মিয়া গ্রেপ্তার না হওয়ায় তদন্তে পুলিশের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। জুলাই আন্দোলনে হামলা ও হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত একজন এজাহারভুক্ত আসামি প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন, অথচ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, এমন অভিযোগে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এলাকাবাসী ও সচেতন মহলে।
এদিকে, মামলাটি বর্তমানে সিলেট কোতোয়ালি থানা পুলিশ তদন্ত করছে। স্থানীয়দের দাবি, আসামির পরিচয় বা পারিবারিক প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কালা মিয়াকে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্য শরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে বাবার পক্ষে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।