
নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আতিক আহমদ (১৮) নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেলে পরে পুলিশ তা উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত আতিক আহমদ জালালাবাদ থানার বাদেআলী গ্রামের আব্দুল খালিকের ছেলে। সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে তিনি জালালাবাদ থানাধীন উত্তর পীরপুর এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যান। তিনি ঠিকাদার দিলোয়ার মিয়ার অধীনে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঠিকাদার দিলোয়ার আতিকের চাচাতো ভাই আব্দুল মালিককে ফোন করে দুর্ঘটনার বিষয়টি জানান। পরে আতিকের বাবা যোগাযোগ করলে ঠিকাদার দাবি করেন, কাজ করার সময় হঠাৎ মাথা ঘুরে পাঁচতলা থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন আতিক। পরে তাকে দ্রুত সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
তবে স্বজনদের অভিযোগ, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে আতিককে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তারা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। যদিও পুলিশ এখনো মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়নি।
এদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে সোমবার রাতে অভিযান চালায় জালালাবাদ থানা পুলিশ। পরে বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব বলেন, “হাসপাতাল থেকে আতিকের মরদেহ স্বজনরা গোপনে বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।”
পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।