• ২০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিলেটে ঈদ বাজারে সক্রিয় ‘পপি সিন্ডিকেট’, টার্গেটে ক্রেতারা

sylhetcrimereport
প্রকাশিত মার্চ ১৯, ২০২৬
সিলেটে ঈদ বাজারে সক্রিয় ‘পপি সিন্ডিকেট’, টার্গেটে ক্রেতারা

সংগৃহিত

সিকারি ডেস্ক:: সিলেটের অপরাধ জগতে এক আতঙ্কের নাম ‘পপি’। বারবার জেল খাটলেও স্বভাব বদলাননি এই নারী চোর সর্দার। তার নেতৃত্বে সিলেটে গড়ে উঠেছে অন্তত শতাধিক নারীর এক বিশাল চোর সিন্ডিকেট। ঈদ বাজারকে কেন্দ্র করে নগরীর অভিজাত মার্কেটে এই চক্রের তৎপরতা ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পপি সিন্ডিকেটের সদস্যরা সাধারণত বোরকা পরে সাধারণ ক্রেতা সেজে মার্কেটে প্রবেশ করে। দেখে বোঝার উপায় নেই যে তারা কেনাকাটা করতে নয়, বরং চুরির উদ্দেশ্যে এসেছে। সুযোগ বুঝে তারা নারীদের ভ্যানিটি ব্যাগ কেটে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেয়। এমনকি ছোটখাটো বহনযোগ্য দোকানের মালামালও বোরকার নিচে কৌশলে লুকিয়ে সটকে পড়ে তারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চোর সর্দার পপির মূল বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বামুরা গ্রামে। বর্তমানে তিনি সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহরের এইচ ব্লকের ৪ নম্বর রোডে একটি চারতলা আলিশান বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তার এই আস্তানাটি মহানগর পুলিশের অস্থায়ী কার্যালয়ের খুব কাছেই অবস্থিত। দিন-রাত সেখানে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনা থাকলেও পপির শক্তিশালী নেটওয়ার্কের কারণে তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান। পপির বিরুদ্ধে মহানগরীর বিভিন্ন থানায় ২০ থেকে ২৫টি মামলা রয়েছে। “চক্রের কোনো সদস্য ধরা পড়লে পপি নিজেই আদালত থেকে তাদের জামিনে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।”

এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্যরা হলেন মালা, মুনিরা, মেঘলা, নেহার, বেগমসহ আরও অনেকে।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য মুনিরা বেগমকে (২৯) গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। পুলিশ জানায়, ভাতালিয়া এলাকার বাসিন্দা শিরীন আলম হাসান মার্কেটে কেনাকাটা করতে গেলে তার ব্যাগ কেটে একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মুনিরাকে চোরাই ফোনসহ আটক করা হয়। আটক মুনিরা সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বাসিন্দা এবং বর্তমানে আখালিয়া এলাকায় বসবাস করে।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মনজুরুল আলম জানান, “রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”