• ২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কাজের কথা বলে সৌদি আরবে গোয়াইনঘাটের নারী পাচার, মুক্তিপণ দাবি

sylhetcrimereport
প্রকাশিত মার্চ ২৪, ২০২৬
কাজের কথা বলে সৌদি আরবে গোয়াইনঘাটের নারী পাচার, মুক্তিপণ দাবি

সিকারি ডেস্ক:: সিলেটের গোয়াইনঘাটে দালালের খপ্পরে পড়ে সৌদি আরবে পাচার ও ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোছা. তাসলিমা বেগম (৪৫) নামে এক নারী। বর্তমানে তাকে জেদ্দায় একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং মুক্তিপণ হিসেবে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দাবি করছে পাচারকারীরা।

ভুক্তভোগী নারীকে অক্ষত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে তার পরিবার।জানা যায়, ভুক্তভোগী তাসলিমা বেগম গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং চা বাগান এলাকার লাখেরপাড় গ্রামের বাসিন্দা আকবর আলীর স্ত্রী।

এ ঘটনায় তার ছেলে মো. তারেকুল ইসলাম ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনের অনুলিপি গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরও প্রদান করা হয়েছে।

আবেদন সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মার্চ স্থানীয় দালাল লিমন আহমদ যিনি সিলেট নগরীর উপশহর এলাকার ‘বিসমিল্লাহ ট্রাভেলস’-এর স্বত্বাধিকারী তার মাধ্যমে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘খাদ্দামাহ’ (গৃহকর্মী) ভিসায় সৌদি আরব যান তাসলিমা বেগম। দালালের পক্ষ থেকে তাকে উচ্চ বেতনে চাকুরীর প্রলোভন দেখানো হয়েছিল।

অভিযোগ উঠেছে, সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর দালাল লিমন আহমদ তাকে কোনো কাজে নিযুক্ত না করে সেখানে অবস্থানরত একটি নারী ও শিশু পাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেয়। পাচারকারীরা তাকে একটি গোপন স্থানে আটকে রেখে প্রতিনিয়ত পাশবিক নির্যাতন চালাচ্ছে।

সম্প্রতি পাচারকারীরা তাসলিমার পরিবারের কাছে টেলিফোনে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। এই টাকা বাংলাদেশে অবস্থানরত জনৈক দালালের মোবাইল নম্বরে (০১৩১৩-৭২১৭২৫) পাঠাতে বলা হয়েছে। মুক্তিপণ না দিলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে পাচারকারীরা।

ভুক্তভোগী তাসলিমা বেগমের ছেলে তারেকুল ইসলাম বলেন, আমার মাকে ভালো কাজের কথা বলে নিয়ে গিয়ে এখন সেখানে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তারা আমার মায়ের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছে।আমরা অসহায় মানুষ, এতো টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই। আমি আমার মাকে ফিরে পেতে বাংলাদেশ সরকার ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।