• ২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাঞ্ছারামপুরে গরু চুরি: চোরের সঙ্গে পুলিশের ‘যোগাযোগ’ নিয়ে চাঞ্চল্য

sylhetcrimereport
প্রকাশিত মার্চ ২৭, ২০২৬
বাঞ্ছারামপুরে গরু চুরি: চোরের সঙ্গে পুলিশের ‘যোগাযোগ’ নিয়ে চাঞ্চল্য

সিকারি ডেস্ক:: জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় গরু চুরির একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের এক সদস্যের সঙ্গে চোরের কথিত ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, বুধবার (২৫ মার্চ) গভীর রাতে উপজেলার দশানি গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়ার খামার থেকে একটি গরু চুরি হয়। পরদিন স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি অভিযুক্ত আলাল মিয়ার বাড়ি থেকে গরুটি উদ্ধার করেন। এ সময় আলাল মিয়াকেও আটক করা হয়।

আটকের পর আলালের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ইমো অ্যাপে ভয়েস মেসেজ, চ্যাট ও কল রেকর্ড ঘেঁটে বাঞ্ছারামপুর থানার এক এএসআই, নাম মাসুদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায় বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। এসব কথোপকথনে চুরির বিষয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ আলাপ রয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে আলাল মিয়া দাবি করেন, চুরির আগে তিনি ওই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। তার ভাষ্যমতে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাকে চুরির কাজে উৎসাহিত করেছিলেন এবং ধরা পড়লে সহায়তার আশ্বাস দেন।

আলাল আরও দাবি করেন, অতীতে মাদক ব্যবসার সময় থেকেই ওই কর্মকর্তার সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং নিয়মিত অর্থের বিনিময়ে তিনি সহযোগিতা পেতেন। সর্বশেষ গরু চুরির সময়ও একইভাবে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানান তিনি।

তবে অভিযুক্ত এএসআই মাসুদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি তাকে চিনতাম না, ইমোতে কথা হয়েছে, তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, গরু চুরির ঘটনায় আলাল মিয়াকে আটক করা হয়েছে এবং পুলিশের এক সদস্যের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনসাধারণের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।