• ২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়া গোয়াইনঘাটের তোয়াকুল ভূমি অফিস: ভাগাভাগি নিয়ে মারামারি

sylhetcrimereport
প্রকাশিত মার্চ ২৭, ২০২৬
ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়া গোয়াইনঘাটের তোয়াকুল ভূমি অফিস: ভাগাভাগি নিয়ে মারামারি

সিকারি ডেস্ক:: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়ন ভূমি অফিস যেন ঘুষ, অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এবার সেই দুর্নীতির ভাগাভাগি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল রূপ নিয়েছে প্রকাশ্য হাতাহাতিতে। অফিসের ভেতর দরজা আটকে ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) দেলোয়ার হোসেন ও অফিস সহায়ক (পিয়ন) আয়াত উদ্দিনের মধ্যে মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, গত বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তোয়াকুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার দেলোয়ার হোসেনের কক্ষে দরজা বন্ধ অবস্থায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দরজার ভেতরে তহশিলদার দেলোয়ার হোসেন ও অফিস সহায়ক আয়াত উদ্দিন একে অপরের শার্টের কলার ধরে কিল-ঘুষি মারছেন। এ সময় কক্ষের বাইরে অপেক্ষমাণ সেবাগ্রহীতারা বারবার দরজা খোলার অনুরোধ করতে থাকেন। একপর্যায়ে বাইরে থেকে এক যুবক এসে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং মারামারি থামিয়ে আয়াত উদ্দিনকে ঘর থেকে বের করে দেন। সরকারি অফিসে এমন নজিরবিহীন মারামারির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অফিস সহায়ক আয়াত উদ্দিন বলেন, “সকালে অফিসে এসে হাজিরা খাতা চাইলে তহশিলদার বলেন খাতা দেওয়া যাবে না। কেন দেওয়া যাবে না জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ শুরু করেন এবং রুমের দরজা আটকে আমাকে মারতে থাকেন। আমি শুধু ওনার মার ঠেকানোর চেষ্টা করেছি।”

তহশিলদার দেলোয়ার হোসেন এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “আমি গাড়িতে আছি, পরে কল দিচ্ছি।” এরপর তিনি আর কথা বলেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, “কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তোয়াকুল ইউনিয়ন ভূমি অফিস এখন চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।নামজারি কিংবা খাজনার রসিদ- প্রতিটি কাজের জন্যই গুনতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা। টাকা ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না।সরকারি স্টাফদের পাশ কাটিয়ে অফিসের কাজ করানো হয় বেতনবিহীন বহিরাগত লোকজন দিয়ে, যারা মূলত দালালি ও ঘুষের টাকা আদায়ে লিপ্ত।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ঘুষের টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে এই মারামারি। আবার অন্য একটি সূত্র বলছে, তহশিলদার দেলোয়ার হোসেনের ঘুষ ও দুর্নীতির পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন অফিস সহায়ক আয়াত উদ্দিন, যার জের ধরেই এই হামলা।তোয়াকুল ইউনিয়নের সাধারণ নাগরিকরা অবিলম্বে অভিযুক্ত তহশিলদার দেলোয়ার হোসেনের অপসারণ এবং এই অফিসের অনিয়ম দূর করতে সিলেটের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।