
সিকারি ডেস্ক:: হবিগঞ্জের লাখাই থানার হত্যা মামলার এক আসামিকে সিলেট নগরীর পাঠানটুলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।ওই আসামির নাম কামাল মিয়া (৪৭)। তিনি পাঠানটুলা এলাকার একটি বাসায় আত্মগোপন করেছিলেন। শনিবার (২৮ মার্চ) র্যাব তাকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃত কামাল মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম থানাধীন বালিগাঁও গ্রামের মৃত জয়েদ আলীর ছেলে। তিনি ইরাজ মিয়া হত্যা মামলার আসামি।
র্যাব জানায়, নিহত ইরাজ মিয়া হবিগঞ্জ জেলার লাখাই থানাধীন ফরিদপুর এলাকার বাসিন্দা। লাখাই থানাধীন বালিগাঁও এলাকার ডা. তরিকুল ইসলাম জেমস এবং তার ভাই যুক্তরাজ্য প্রবাসী জুয়েল মিয়ার কিছু জমি কামাল মিয়াসহ অন্যরা অন্যায়ভাবে জবরদখল করে চাষাবাদের চেষ্টা করলে কিছুদিন পূর্বে উক্ত বিষয়ে তাদের মধ্যে সালিশ বৈঠক হয়। সালিশ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভিকটিমের বড় ভাই সাবেক ইউপি সদস্য সাহাব উদ্দিন। বৈঠকে নিহত ইরাজ মিয়াসহ এলাকার অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ডা. তরিকুল ইসলাম জেমস ও তার ভাইয়ের জমিগুলো অন্যায় ও অবৈধভাবে চাষাবাদ করতে বিবাদীদের নিষেধ করা হয়। এ সময় বিবাদীরা সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অমান্য করে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। ইরাজ মিয়া এর প্রতিবাদ করলে বিবাদীগণ ইরাজ ও তার বড় ভাইকে প্রাণে মারার হুমকি প্রদান করেন।
র্যাব আরও জানায়, এই ঘটনার জের ধরে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি সকালে নিহত ইরাজ মিয়া অষ্টগ্রাম থানাধীন আদমপুর বাজারে যাওয়ার পথে বালি ফরিদপুর এলাকার মসজিদ ও মাদ্রাসা সংলগ্ন পাকা রাস্তার উপরে পৌঁছামাত্র পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মারাত্মক জখম করে। পরবর্তীতে আশপাশের লোকজন ভিকটিমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ভিকটিমের ছেলে বাদী হয়ে লাখাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।