
সিকারি ডেস্ক:: সিলেটের সারী নদীজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বুক চিরে প্রবাহিত এই নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দিনরাত নির্বিচারে বালু উত্তোলন চলছে, যার ফলে নদীতীরবর্তী জনপদ ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জৈন্তাপুর উপজেলার আগফৌদ (পাঁচসেউতি-খেয়াঘাট), হাটিরগ্রাম, বিড়াখাই ও গাতিগ্রাম এবং গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমার বাজার, আনন্দ বাজার, বুদিগাঁও, তিতকুলি ও সাংকিভাঙ্গা এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন ও ইঞ্জিনচালিত স্টিল বডির নৌকা ব্যবহার করে নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে তীরবর্তী এলাকায় বড় বড় ধস দেখা দিচ্ছে।প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন ও মজুদের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর দুই তীরের বাসিন্দারা এখন চরম ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ইতোমধ্যে অনেকের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে, এবং শত শত একর উর্বর কৃষিজমি ধ্বংসের কবলে পড়েছে।অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথও পরিবর্তিত হচ্ছে, যার কারণে তীরবর্তী রাস্তাঘাট ও স্থানীয় বাজারগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তা।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানান, সারী নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে।
তিনি বলেন, যারা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে নদী ও পরিবেশের ক্ষতি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ড্রেজার জব্দসহ অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, শুধুমাত্র সাময়িক অভিযান দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তারা অবৈধ বালু উত্তোলন সম্পূর্ণরূপে বন্ধে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নদীভাঙনে হাজারো মানুষ গৃহহীন হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।