• ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হবিগঞ্জে শিক্ষার্থীকে ধ র্ষ ণ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃ ত্যু

sylhetcrimereport
প্রকাশিত জুন ১, ২০২৬
হবিগঞ্জে শিক্ষার্থীকে ধ র্ষ ণ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃ ত্যু

সিকারি ডেস্ক:: হবিগঞ্জে এক শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের পর শারীরিক নির্যাতন করা হয় এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে অচেতন অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সোমবার (১ জুন) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত ওই শিক্ষার্থী নদী দাস (১৬)। সে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর এলাকার অজিত দাসের মেয়ে। মায়ের মৃত্যুর পর তিনি বানিয়াচং উপজেলার মশাকলি গ্রামে নানার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করতেন। সম্প্রতি তিনি এসএসসি পরীক্ষা শেষ করেন। শুধু ব্যবহারিক পরীক্ষা বাকি ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বানিয়াচং উপজেলার সুনারু গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় আইনজীবী সহকারী দিলিপ দাসের সঙ্গে নদীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিছুদিন আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে হবিগঞ্জ শহরের ইসকন মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে নদী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মন্দির কর্তৃপক্ষ বিয়ে সম্পন্ন না করে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়।

নদীর দাদু নারায়ন দাস জানান, রবিবার (৩১ মে) সকালে পরিবারের অগোচরে আবারও নদীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান দিলিপ দাস। পরে রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের উপশহর বাণিজ্যিক এলাকায় সড়কের পাশে অচেতন অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১ জুন) ভোরে তার মৃত্যু হয়। এ সময় তার নাক-মূখ রক্তাক্ত ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল ইসলাম সরকার জানান, ‘প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।’

বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ধর্ষণ, আত্মহত্যা কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি-না, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।