গণতন্ত্র রক্ষার আহ্বান রাষ্ট্রপতির, সিলেটের উন্নয়নে নতুন প্রত্যাশা

sylhetcrimereport
প্রকাশিত September 15, 2026
গণতন্ত্র রক্ষার আহ্বান রাষ্ট্রপতির, সিলেটের উন্নয়নে নতুন প্রত্যাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে ফিরে পাওয়া গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার সিলেটে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি তুলে ধরেছেন গণতন্ত্র, দেশের পুনর্গঠন এবং সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে তাহার ভাবনা।

রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে ছিল নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন। মঙ্গলবার বিকেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। এসময় সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম।

সংবর্ধনায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। এখন এই গণতন্ত্রকে রক্ষা করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই সবার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণতন্ত্র পেয়েছি। গণতন্ত্রকে রক্ষা করা এখন আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ, সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

সরকারি ও বিরোধী দল উভয়ের দায়িত্ব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা এবং সংসদকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা—এমন মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।

তিনি বলেন, অতীতে গণতন্ত্রের জন্য দেশের মানুষ বহু ত্যাগ স্বীকার করেছে। সেই ত্যাগের বিনিময়ে তৈরি হওয়া সুযোগ অবহেলায় নষ্ট করা যাবে না। দেশের পুনর্গঠন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

এরপর সিলেটের উন্নয়ন ও সম্ভাবনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। পাহাড়, নদী, ঝরনা, চা-বাগান, বন ও হাওর—প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এ অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

প্রবাসীদের বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সিলেটের প্রবাসী সমাজ শুধু এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পর্যটন, কৃষি, চা, মৎস্য, তথ্যপ্রযুক্তি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে তাঁদের বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

সিলেটের হাওর ও জলাশয়কে কেন্দ্র করে মৎস্য চাষ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এসব ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও প্রবাসী বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে কাজ চলছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছু শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ খাত আগামী দিনে আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ অঞ্চলের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছেন। বড় কিছু উন্নয়ন প্রকল্পও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

অনুষ্ঠানে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বানও জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল ও মতের ভিন্নতা থাকলেও দেশের স্বার্থে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি করা সম্ভব, সেসব বিষয়ে সবাইকে একমত হতে হবে।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, আমরা যদি নিজের পায়ে নিজেরা দাঁড়াতে না পারি, নিজেদের অধিকার নিজেদের আদায় করে নিতে না পারি, কেউ এসে আমাদের সবকিছু করে দিয়ে যাবে না।

সিলেটের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ অঞ্চল তাঁর অত্যন্ত প্রিয়। সিলেটবাসীর উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সিলেটের মানুষের সঙ্গে তিনি সবসময় ছিলেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন।

নাগরিক সংবর্ধনায় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্ধকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি, হুইপ জি কে গউস এমপি এবং রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

সংবর্ধনা শেষে সিলেটের স্থানীয় সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির সম্মানে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।