• ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গোয়াইনঘাটে আলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে চাঁদাবাজি ও শ্রমিকদের মারধর

sylhetcrimereport
প্রকাশিত জুন ১৭, ২০২৬
গোয়াইনঘাটে আলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে চাঁদাবাজি ও শ্রমিকদের মারধর

সিকারি ডেস্ক::  সিলেট ও সুনামগঞ্জ নৌপথে বাল্কহেড শ্রমিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, বেপরোয়া চাঁদাবাজি এবং প্রশাসনের অসহযোগিতার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী নৌযান শ্রমিকরা। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের রাগীব আলী মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ ও জানমালের নিরাপত্তার দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক সংগঠন গোয়াইনঘাটের সভাপতি সুমন আহমেদ অভিযোগ করেন, কুখ্যাত চাঁদাবাজ আব্দুল আলিম ওরফে আলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি চক্র নৌপথে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।

বক্তব্যে জানানো হয়, গত ১৩ জুন গোয়াইনঘাট উপজেলায় বালু আনতে গেলে একদল চাঁদাবাজ জাহাজে এসে শ্রমিকদের ভয়-ভীতি দেখায়। এর প্রতিবাদে পরদিন ১৪ জুন বিকেলে গোয়াইনঘাটে শ্রমিক সংগঠনগুলোর কার্যালয়ে সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা সভায় বসেছিলেন শ্রমিক ও নেতৃবৃন্দ। ঠিক সেই মুহূর্তে আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী লাঠিসোটা নিয়ে ট্রলারযোগে এসে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়।

শ্রমিকদের অভিযোগ, এই হামলার পর তারা গোয়াইনঘাট থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ কোনো আইনি সহযোগিতা তো করেইনি, উল্টো তাদেরকে থানার বারান্দা থেকে বের করে দেয়। এমনকি ছাতক নৌ পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এবং গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে বারবার নিরাপত্তা চেয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি।

শ্রমিকরা জানান, গোয়াইনঘাট থেকে শুরু করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুট পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে তারা প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজ চক্রের হাতে চরম হেনস্থা ও মারধরের শিকার হচ্ছেন। বর্তমানে পুলিশের নামে ৫ হাজার টাকা, ইউনিয়ন ট্যাক্সের নামে ২ হাজার টাকা এবং হিজড়াবাহিনী দিয়েও জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

এছাড়া বিআইডব্লিউটিএ-এর ইজারাদারদের বিরুদ্ধেও দ্বিগুণ ও অবৈধ টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন শ্রমিকরা। গোয়াইনঘাট থেকে একটু সামনে গেলেই প্রতি ফুট হিসেবে ১ টাকা করে কেটে নেওয়া হচ্ছে। এরপর সালুটিকর ও বাধাঘাটের মধ্যবর্তী স্থানে শ্রমিকদের মারধর করে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা এবং ছাতক এলাকায় পৌঁছালে আবারও বিআইডব্লিউটিএ-এর নামে এককালীন ৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

গত ১৪ জুন নৌ পুলিশ সিলেট অঞ্চলের ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করার পরও এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শ্রমিকরা প্রশাসনের কাছে ৪টি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন- ১. সিলেটের গোয়াইনঘাটে দ্রুত একটি স্থায়ী বা অস্থায়ী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করতে হবে।

২. রাতে লোড পয়েন্টগুলোতে নৌ পুলিশের টহল জোরদার করতে হবে।

৩. সকল ধরনের অবৈধ চাঁদা ও ‘মার্কা’র নামে চাঁদাবাজি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

৪. সরকারি নিয়মের বাইরে বিআইডব্লিউটিএ-এর নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ করতে হবে।

 

সংবাদ সম্মেলন থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, অনতিবিলম্বে এই নৌ-সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে শ্রমিকরা যেকোনো সময় সব ধরনের পণ্য পরিবহন বন্ধ করে যুগপৎ কর্মবিরতি দিতে বাধ্য হবেন। একই সাথে সিলেটের গোয়াইনঘাটকে ব্যবসার জন্য একটি সম্পূর্ণ ‘অনিরাপদ এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শ্রমিকরা বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), নৌ পুলিশ প্রধান, সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী বাল্কহেড শ্রমিকদের মাঝে মো: রাতুল ইসলাম, রাসেল, সোহেল, জামাল, শাহিন ও ফারুকসহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।