• ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গোয়াইনঘাটে প্রেমের ফাঁদে তরুণী পাচার: মাদকাসক্ত রিমালকে গ্রেপ্তারের দাবি স্থানীয়দের

sylhetcrimereport
প্রকাশিত জুন ১৭, ২০২৬
গোয়াইনঘাটে প্রেমের ফাঁদে তরুণী পাচার: মাদকাসক্ত রিমালকে গ্রেপ্তারের দাবি স্থানীয়দের

সিকারি ডেস্ক::  সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্ত এলাকায় প্রেমের অভিনয় করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তরুণীদের ভারতে পাচার করার একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ খুলনা বিভাগের পিরোজপুর জেলার রুমা নামের এক তরুণীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সীমান্ত দিয়ে ভারতে বিক্রি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলার পান্তমাই গ্রামের রিমাল মিয়ার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত রিমাল পান্তমাই গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে এবং এলাকায় একজন চিহ্নিত মাদকসেবী এবং মানবপাচারকারী হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিমাল তীব্র মাদকাসক্ত এবং মাদকের টাকার জোগাড় করতেই সে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকার একটি মানবপাচার চক্রের মূল হোতা বা ‘গডফাদার’ হিসেবে কাজ করছে। তার মূল কৌশল হলো, দেশের দূর-দূরান্তের সরল মেয়েদের সাথে মোবাইল ফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন বা বেড়ানোর কথা বলে সে মেয়েদের গোয়াইনঘাটের পান্তমাই এলাকায় তার নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর সুযোগ বুঝে সীমান্ত পার করে ভারতীয় চক্রের হাতে তরুণীদের তুলে দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়, যা সে পরবর্তীতে মাদক ক্রয়ের পেছনে ব্যয় করে।

সম্প্রতি পিরোজপুরের বাসিন্দা রুমার সাথে একইভাবে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে রিমাল। গত সপ্তাহে সে রুমাকে সিলেটে নিয়ে আসে এবং এর পর থেকেই রুমা নিখোঁজ রয়েছেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, রিমাল কিছু টাকার বিনিময়ে রুমাকে পান্তমাই সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করে দিয়েছে।

“রিমাল এলাকায় মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। মাদকের টাকার জন্য সে যেকোনো অপরাধ করতে পারে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন সময় মেয়েরা তার বাড়িতে আসে এবং পরে তারা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। সীমান্ত পার করে মেয়েদের বিক্রি করে দেওয়াই তার মূল আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

পরিস্থিতির কারণে ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মামলা দায়ের করেনি। তবে একজন মাদকসেবীর হাত ধরে প্রত্যন্ত সীমান্ত এলাকায় এমন আন্তর্জাতিক মানবপাচারের ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল এই মাদকাসক্ত পাচারকারীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।