
সিকারি ডেস্ক:: দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, ৫% মূল্যবৃদ্ধির বিতর্কিত গেজেট বাতিল, ভূমির মালিকানা প্রদান এবং চা-শ্রমিক ইউনিয়নের (সিবিএ) নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন সিলেটে চা-শ্রমিকরা।
চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র উদ্যোগে শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় সিলেটের খাদিম চা-বাগানে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ চলাকালে শ্রমিকরা দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন এবং সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করেন।
চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি সবুজ তাঁতীর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সমন্বয়ক মনীষা ওয়াহিদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ, উপদেষ্টা সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক দীপ্ত নায়েক, বুরজান চা-কারখানার শ্রমিকনেতা সুশান্ত চাষা প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির সাথে চা-শ্রমিকদের মজুরি কাঠামো অত্যন্ত অমানবিক। প্রতি বছর মাত্র ৮ টাকা করে মূল্য বৃদ্ধি চা-শ্রমিকদের সাথে এক ধরনের প্রহসন ও তামাশা। বর্তমানে নির্ধারিত দৈনিক মাত্র ১৮৭ টাকা মজুরিতে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বেঁচে থাকার জন্য সম্মানজনক ন্যায্য মজুরি আজ দেশের প্রতিটি চা-শ্রমিকের প্রাণের দাবি।
ভূমির অধিকার বিষয়ে বক্তারা বলেন, এই ভূখণ্ডে চা-শ্রমিকদের বসবাসের ২০০ বছর হতে চললেও তারা আজও ভূমিহীন। ভূমির নিজস্ব মালিকানা না থাকায় নাগরিক সকল মৌলিক সুযোগ-সুবিধা ও সাংবিধানিক অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করা সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ তাঁর বক্তব্যে বলেন, চা-শ্রমিকরা আজও চরম রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের শিকার। স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও এই জনগোষ্ঠী আধুনিক দাসত্বের জীবনযাপন করছেন। দেশের সবচেয়ে অবহেলিত শ্রমজীবী মানুষ হয়েও তারা সবচেয়ে কম মজুরিতে কাজ করেন। দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি আদায়ের জন্য সব বাগানের শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি সবুজ তাঁতী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আজ আমরা স্বল্প সময়ের জন্য রাজপথে নেমে সড়ক ছেড়ে দিলেও সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছি, পরবর্তী কর্মসূচিতে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আর রাজপথ ছাড়বো না।
এর আগে খাদিম চা-বাগানের লোহার পুল এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বাগানের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে চা-শ্রমিকরা সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।