সিলেটে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের পাহাড়

sylhetcrimereport
প্রকাশিত September 8, 2026
সিলেটে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের পাহাড়

সিকারি ডেস্ক::  সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়ে প্রেষণে কর্মরত কর্মচারী ও কার্যালয় সংলগ্ন মসজিদের ইমাম মাওলানা শোয়েব আহমদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি ওষুধ বিক্রি, নিয়োগ বাণিজ্য ও আর্থিক প্রতারণাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গোলাপগঞ্জের পাবলিক হেলথের মূল পদ ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট/অফিস সহায়ক হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি সিভিল সার্জন কার্যালয়ে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। তার বাড়ি গোয়াইনঘাট উপজেলার হায়দর গ্রামের গোরা গ্রামে।

স্থানীয় সূত্র ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন সিটি মেয়র আনোয়ারুজ্জামানের কথিত খালাতো ভাই ও হেলথ স্টোর কিপার মনজুর আহমদের রাজনৈতিক প্রভাবে এলাকায় ও কার্যালয়ে একক আধিপত্য বিস্তার করেন শোয়েব।

করোনা ও ওষুধে দুর্নীতি: করোনা মহামারির সময়ে বিদেশগামী যাত্রীদের ভ্যাকসিনের সিরিয়াল দেওয়ার নামে অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া কার্যালয়ের সরকারি ওষুধ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী “সাজিদ” নামের এক সহযোগীর মাধ্যমে বাইরে অবৈধভাবে বিক্রি করার কথা বলা হয়েছে।

নিয়োগ বাণিজ্য ও দালালি: সাবেক সিভিল সার্জনের সহযোগিতায় “হোসাইন” নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ওয়ার্ড বয় পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি পুলিশ হাসপাতালের মাধ্যমে এক নিকটাত্মীয়ের সূত্রে সাবেক ভিসি মোরশেদ চৌধুরীর নাম ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ লেনদেনের বিষয় নিয়ে তার বিরোধ চলছে।

প্রতারণা ও ছিনতাইয়ে যোগসাজশ: ফিশারি প্রকল্পের কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির কিছু টাকা ফেরত দেওয়া হলেও বাকি টাকা আটকে রেখেছেন। এছাড়া চৌহাট্টার চা-পাতা ব্যবসায়ী সেবুলের সঙ্গে মানবপাচার (আদম ব্যবসা) এবং ২০১১-১২ সালের দিকে নিজ এলাকার ওবায়দুল্লাহ বাবুলের তিন লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল চক্রের সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

ভয়ভীতি প্রদর্শন: নিজেকে র‌্যাব পরিচয়ে “পাবেল” নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হুমকি ধমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি, বিষয়গুলো নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখলে সরকারি ওষুধ লোপাট, অবৈধ নিয়োগ, জালিয়াতি ও সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করার আসল সত্য বেরিয়ে আসবে। অনতিবিলম্বে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।