দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান, সিলেটে কিশোর গ্যাং কমলেও বাড়ছে চোরাচালানের দৌরাত্ম্য

sylhetcrimereport
প্রকাশিত October 9, 2026
দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান, সিলেটে কিশোর গ্যাং কমলেও বাড়ছে চোরাচালানের দৌরাত্ম্য

সীমান্ত থেকে শহর—চোরাচালানের পণ্য পরিবহনে সক্রিয় একাধিক সিন্ডিকেট, অভিযানের পরও থামছে না তৎপরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক:: দেশজুড়ে চলছে সাঁড়াশি অভিযান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতায় সিলেটে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত অনেকটাই কমে এসেছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তবে এর বিপরীতে সীমান্তঘেঁষা এলাকাগুলো থেকে চোরাচালানের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

দিনের আলো ফুরিয়ে রাত নামতেই সীমান্তবর্তী সড়কগুলোতে শুরু হয় পণ্যবাহী বিভিন্ন যানবাহনের চলাচল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুতগতিতে ছুটে চলা এসব যানবাহনের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকা থেকে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্য দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। কখনো কখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির মধ্য দিয়েই এসব পরিবহন চলাচল করে বলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে।

সাঁড়াশি অভিযানের প্রভাবে অপরাধের কিছু ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন এলেও সীমান্তজুড়ে চোরাচালানের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে—এই নেটওয়ার্কের নেপথ্যে কারা রয়েছে? সীমান্ত থেকে কীভাবে পণ্যগুলো দেশের অভ্যন্তরে ঢুকছে এবং একাধিক হাতবদলের পর কীভাবে তা পৌঁছে যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়—তা নিয়ে রয়েছে নানা আলোচনা।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাটের ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন বিভিন্ন পথ দিয়ে প্রতিদিনের ব্যবহার্য ও খাদ্যদ্রব্যের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং আগ্নেয়াস্ত্রও চোরাপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করে—এমন অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সীমান্ত থেকে পণ্য গ্রাহকের হাতে পৌঁছানোর আগেই একাধিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হাতবদল হয়। ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সীমান্তমূল্যের তুলনায় গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর সময় পণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণের বেশি হয়ে যায়।

সীমান্ত এলাকা থেকে শ্রমিকদের মাধ্যমে নৌকায়/মোটরসাইকেল, ট্রাক কিংবা পিকআপে করে এসব পণ্য শহরের বিভিন্ন গুদামঘরে নেওয়া হয় বলে অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে। এ পথে অতিক্রম করতে হয় বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা এবং একাধিক থানার সীমানা।

চোরাচালান নিয়ে স্থানীয় পোর্টাল থেকে শুরু করে জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়ে আসছে। সীমান্তে অভিযানও চলছে। এরপরও কেন থামছে না এই তৎপরতা—এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।

চোরাচালানের পণ্য পরিবহনের সড়কের নিয়ন্ত্রণের ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে বিমানবন্দর থানাধীন এলাকায় রক্তপাতের ঘটনাও ঘটেছে—এমন তথ্যও সামনে এসেছে। ঘটনাটির সঙ্গে চোরাচালানের সম্পৃক্ততা এবং এর পেছনের ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

সীমান্তজুড়ে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বিপুল অর্থমূল্যের অবৈধ পণ্য আটকের খবরও জানাতে নিয়মিত ব্রিফিং করছে বিজিবি। একইভাবে সড়কপথে অভিযান চালিয়ে পুলিশও বিভিন্ন চালান জব্দ করছে।

অর্থাৎ, একদিকে অভিযান চলছে এবং অবৈধ পণ্য জব্দ হচ্ছে; অন্যদিকে সীমান্ত থেকে দেশের অভ্যন্তরে এসব পণ্য পরিবহনের তৎপরতাও পুরোপুরি থামছে না বরং বেড়েই চলেছে।

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—শুধু সীমান্তে পণ্য আটক করাই কি যথেষ্ট, নাকি সীমান্ত থেকে শহর পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা প্রয়োজন?

কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা যখন দৃশ্যমান, তখন একই সময়ে সীমান্ত থেকে শহর পর্যন্ত চোরাচালানের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সীমান্তে পণ্য নামানোর পর কারা তা গ্রহণ করছে, কারা পরিবহন করছে, কোন পথে তা শহরে পৌঁছাচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত কারা এর সুবিধাভোগী—এসব প্রশ্নের উত্তর বের করা গেলে চোরাচালানের পুরো নেটওয়ার্কের একটি চিত্র পাওয়া সম্ভব।

অভিযানে বিচ্ছিন্নভাবে পণ্য আটক হলেও এর সঙ্গে জড়িত মূল নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে কি না, সেটিও এখন দেখার বিষয়।

প্রশ্ন থেকে যায়—সাঁড়াশি অভিযানের আওতায় কিশোর গ্যাং এলে, সীমান্ত থেকে শহর পর্যন্ত বিস্তৃত চোরাচালানের এই নেটওয়ার্ক কি থাকবে নজরদারির বাইরে?