
সিকারি ডেস্ক:: মৌলভীবাজারের রাজনগরে প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নালিহুরী গ্রামে তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হওয়ার কথা ছিল।
এ উপলক্ষে কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজনসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। তবে প্রথম স্ত্রীর অভিযোগের পর বিষয়টি জানাজানি হলে বিয়েতে অসম্মতি জানায় কনেপক্ষ। ফলে শেষ পর্যন্ত বিয়ের আয়োজন ভেস্তে যায়।
অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন- মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ধাইসার গ্রামের সৈয়দ চেরাগ আলীর ছেলে সৈয়দ কাওছার আলী (৪৫)। তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ের চেষ্টা এবং কনেপক্ষকে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।
তবে বরপক্ষের দাবি, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।
প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে কাওছার আলীর সঙ্গে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নের বরমান গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার মেয়ে আমিনা বেগমের বিয়ে হয়। আমিনা বেগম যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। বিয়ের পর তিনি স্বামীকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান। সেখানে কয়েক বছর আগে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমোদন পাওয়ার পর কাওছার আলী তাঁর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন বলে জানা গেছে।
আমিনা বেগমের ছোট ভাই মো. আইয়ুব আলী বলেন, তাঁর বোনকে কিছু না জানিয়েই কাওছার আলী দেশে চলে আসেন। পরে তিনি দেশে দ্বিতীয় বিয়ে করতে যাচ্ছেন—এমন খবর পেয়ে আমিনা বেগম বাংলাদেশে আসেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজার মডেল থানায় কাওছার আলীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে কাওছার আলীর সঙ্গে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নালিহুরী গ্রামের এক তরুণীর বিয়ে ঠিক হয়। শুক্রবার দুপুরে মৌলভীবাজারের রুমেল কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষে অতিথিদের জন্য খাবার প্রস্তুত, সাজসজ্জাসহ প্রয়োজনীয় আয়োজনও সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু কাওছার আলীর আগের বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কনেপক্ষ বিয়েতে অসম্মতি জানায়।কনেপক্ষের অভিযোগ, আগের বিয়ের তথ্য গোপন রেখে তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিকভাবে তাঁদের সম্মানহানি হয়েছে এবং মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁরা উদ্বিগ্ন।