
সিকারি ডেস্ক:: সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তে ভারতীয় চোরাই পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে দিলদার হোসেন (১৬) নামের এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সোনারতনপুঞ্জি কালভার্টের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দিলদার হোসেন ভাউরভাগ প্রথম খণ্ড গ্রামের দিনমজুর নিজাম উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে দিলদার সোনারতনপুঞ্জি কালভার্টের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা ভারতীয় চোরাই পণ্য লোড করার জন্য সেখানে থাকা একটি নম্বরবিহীন টাটা পিকআপ অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছিলেন চোরাকারবারীদের সহযোগী সেবুল আহমদ (২৪)। বেপরোয়া গতিতে গাড়িটি ঘুরানোর সময় দাঁড়িয়ে থাকা দিলদারকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সে মাটিতে পড়ে গেলে পিকআপের চাকা তার মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়।
গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় দিলদারকে রাস্তায় ফেলে রেখে চালক সেবুল আহমদ, গাড়ির মূল মালিক রামিম উদ্দিন এবং চোরাকারবারি দলের সদস্য মাসুম আহমদ একটি মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় দিলদারকে উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনরা জানান, দুর্ঘটনার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চোরাকারবারিদের ফেলে যাওয়া নম্বরবিহীন পিকআপটি জব্দ করে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।এ বিষয়ে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক পিকআপটি জব্দ করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান চক্রের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং কিশোর দিলদারের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।