
সিকারি ডেস্ক:: এক শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় সিলেটের স্কলার্সহোম’র শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা উপাধ্যক্ষের অপসারণসহ ৫ দফা দাবি জানিয়েছেন।
রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে অভিবাবকরাও অংশ নেন। পরে কর্তৃপক্ষ দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে আগামীকাল সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা।
গত বুধবার (১৭- সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্কলার্সহোম’র শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আজমান আহমেদ দানিয়ালের (১৯) মরদেহ তার নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
তবে আজমানের মায়ের অভিযোগ, প্রি-টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করায় আজমানকে অপমান করে স্কলার্সহোম কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া অভিভাবকদের ডেকে নিয়ে অপমান ও আজমানকে কলেজ থেকে ছাড়পত্র প্রদান করার কথা বলা হয়।
এদিকে, আজমানের মত্যুর খবরে ছড়িয়ে পরার পর থেকেই স্কলার্সহোম কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তার সহপাঠী ও প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। এমনকি অনেক সাবেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও স্কলার্সহোমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাকেদের সাথে খারাপ আচরণ, পর্যাপ্ত ও দক্ষ শিক্ষক না থাকা, শিক্ষার্থী খারাপ করলে ছাড়পত্র দিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
আজমানের মৃত্যুর প্রতিবাদে রবিবার সকালে শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসের সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এ সময় তারা আজমানের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে কলেজের অধ্যক্ষের সাথে দেখা করে ৫ দফা দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
এ সময় আন্দোলনকারীরা গণমাধ্যমকে বলেন, কলেজের অধ্যক্ষ আমাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা সোমবার সকাল পর্যন্ত সময় দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সোমবার সকাল ১০টা থেকে আবার আমরা আন্দোলনে নামবো।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- আজমান ও তার অভিভাবকদের অপমানের কারণে উপাধ্যক্ষ হোসেন চৌধুরীকে অপসারণ করতে হবে, একই অভিযোগে শ্রেণি শিক্ষক শামীম হোসেনকে অপসারণ করতে হবে, কোনো শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো সমস্যার সম্মুখীন কিংবা হেনস্থা করা যাবে না ও পরীক্ষা কমিটির রুটিন তৈরির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্কলার্সহোম’র শাহী ঈদগাহ শাখার অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীর আহমেদ কাদেরী (অব.) বলেন, আজমান ও তাঁর পরিবারের সাথে খারাপ ব্যবহার করা হয়নি। বিষয়টি ভিত্তিহীন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা আজ ৫ দফা দাবি দিয়েছে। আমরা এগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।