• ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যেভাবে গ্রে*ফতার হলো প*র্নোগ্রাফি মা*মলার প্রধান আ*সামি পঙ্খী আলী

sylhetcrimereport
প্রকাশিত মার্চ ১২, ২০২৬
যেভাবে গ্রে*ফতার হলো প*র্নোগ্রাফি মা*মলার প্রধান আ*সামি পঙ্খী আলী

মৌলভীবাজারে দায়ের করা পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলার প্রধান আসামি পঙ্খী আলীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৯। বুধবার (১১ মার্চ) রাতে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব-৯ সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার সদর মডেল থানাধীন দক্ষিণ কলিমাবাদ এলাকার এক সৌদি প্রবাসীর সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে পঙ্খী আলীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা নিয়মিত ভিডিও কলে কথা বলতেন। এ সুযোগে ভিডিও কলের সময় প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ভিকটিমের কিছু আপত্তিকর ছবি স্ক্রিনশটের মাধ্যমে সংরক্ষণ করে পঙ্খী আলী।

পরে ওই ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভিকটিমের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে সে। প্রথমে ভিকটিম ভয়ে সৌদি আরব থেকে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে ২০০ রিয়াল (প্রায় ৬ হাজার ৬০০ টাকা) পাঠান। এরপরও হুমকি অব্যাহত রাখায় ভিকটিম বিভিন্ন সময়ে মোট দুই লাখ ২১ হাজার টাকা পাঠাতে বাধ্য হন।

পরবর্তীতে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করলে ভিকটিম তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে পঙ্খী আলী ভিকটিমের আপত্তিকর ছবি তার আত্মীয়স্বজনের মোবাইলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর র‌্যাব-৯ ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। তদন্তের এক পর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৯ এর সিপিসি-২, মৌলভীবাজারের একটি আভিযানিক দল বুধবার রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার একটি পাহাড়ি চা ঘরের সামনে অভিযান চালায়। অভিযানে সেখান থেকে মামলার প্রধান আসামি পঙ্খী আলীকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত পঙ্খী আলী (৪৩) কমলগঞ্জ উপজেলার বটেরতল এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মদ্রিস আলী।

গ্রেফতারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‌্যাব-৯ জানিয়েছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।