• ২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সহযোদ্ধাদের বহিষ্কারে ছাত্রদল নেতা রাহেলের আবেগঘন স্ট্যাটাস: রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়

sylhetcrimereport
প্রকাশিত মার্চ ২৪, ২০২৬
সহযোদ্ধাদের বহিষ্কারে ছাত্রদল নেতা রাহেলের আবেগঘন স্ট্যাটাস: রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়

সংগৃহিত

সিকারি ডেস্ক::সিলেট দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে রাজপথ কাঁপানো লড়াকু সৈনিকদের আকস্মিক বহিষ্কারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক জয়নাল আবেদীন রাহেল। দল ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ঈদে যখন উৎসবের আমেজ থাকার কথা, ঠিক সেই মুহূর্তে রাজপথের সহযোদ্ধাদের বহিষ্কারের বিষয়টিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
সোমবার (২৩ মার্চ) তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া একটি আবেগঘন ও প্রতিবাদী স্ট্যাটাস ইতিমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জয়নাল আবেদীন রাহেল তার স্ট্যাটাসে লিখেন, “দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন পর যখন আজ নিজের দল ক্ষমতায়, আর দল ক্ষমতায় আসার পর সবাই যখন প্রথম ঈদ পালন করছে আনন্দে, ঠিক তখনই ওনাদের আনন্দ মাটি হয়ে গেলো। বহিষ্কার হয়ে ঈদ উৎসবটাই মাটি। ঈদ সবার জীবনে আনন্দ বয়ে নিয়ে আসে না।”

আন্দোলনের সম্মুখসারির নেতাদের এভাবে সরিয়ে দেওয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তিনি আরও যোগ করেন, “আমার রাজনৈতিক জীবনের ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা থেকে বলছি যেহেতু ওনারা আন্দোলন সংগ্রামের প্রথম সারির যোদ্ধা সেহেতু আমার দৃষ্টিতে নূন্যতম একটু যাচাই বাছাই করা মনে হয় উচিৎ ছিলো।”

দীর্ঘদিন রাজপথে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মতে, আন্দোলনের কঠিন সময়ে যারা জেল-জুলুম উপেক্ষা করে বুক পেতে দিয়েছিলেন, বিজয়ের পর তাদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে বহিষ্কার করায় তৃণমূল পর্যায়ে চরম হতাশা সৃষ্টি হতে পারে। রাহেলের এই পোস্টটি সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সাধারণ কর্মীরা।

সিলেট ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী রাহেলের স্ট্যাটাসের নিচে মন্তব্য করে সহমত পোষণ করেছেন। তাদের দাবি, কোনো অভিযোগ থাকলে তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, কিন্তু আন্দোলনের ত্যাগী নেতাদের ঈদ আনন্দের মুহূর্তে এভাবে বহিষ্কার করা অমানবিক।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ছাত্রদলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন জেলায় বহিষ্কারের ঘটনা ঘটছে। তবে সিলেটের এই প্রভাবশালী ছাত্রনেতার স্ট্যাটাসটি দলের অভ্যন্তরীণ সংহতির প্রশ্নে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।