
সিকারি ডেস্ক:: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোর অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ আবারও সামনে এসেছে। মাত্র ৭৫ টাকার একটি ইনজেকশন দিতে রোগীর কাছ থেকে দাবি করা হয়েছে ২৫০০ টাকা। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ১২০০ টাকায় ইনজেকশন দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, টোরালাক্স (কিটোরোলাক ট্রোমেথামিন) ইনজেকশন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬০-৭৫ টাকা। এটি নন-স্টেরয়ডাল এন্টিইনফ্লামেটরি শ্রেণীর একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক ইনজেকশন। অথচ এই ইনজেকশন প্রয়োগের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মাধবপুর উপজেলার শিমুলঘর গ্রামের দুবাই প্রবাসী মোঃ আফছার চৌধুরী তার স্ত্রী জাহেরা বেগমকে চিকিৎসার জন্য মাধবপুর তিতাস-২ (নিউ তিতাস) ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে ডাঃ ওয়াসিম রোগী দেখার পর ব্যবস্থাপত্রে কোনো ইনজেকশনের নাম উল্লেখ না থাকলেও ব্যথার জন্য টোরালাক্স ইনজেকশন দেওয়ার পরামর্শ দেন।
ইনজেকশন দিতে কত টাকা লাগবে জানতে চাইলে প্রথমে আড়াই হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ১৫০০ টাকা জানানো হলে বাধ্য হয়ে রাজি হন রোগীর স্বজনরা। কিন্তু ক্লিনিকের ফার্মেসিতে ইনজেকশন না থাকায় বাইরে থেকে কিনতে গেলে তারা জানতে পারেন ইনজেকশনের মূল্য মাত্র ৭৫ টাকা। বিষয়টি নিয়ে পুনরায় চিকিৎসকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ইনজেকশনের মূল্য বাদেই শুধুমাত্র প্রয়োগের জন্য এ টাকা দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাধবপুরের কিছু প্রাইভেট ক্লিনিক দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত বিল আদায় করছে। এতে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এদিকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ইমরুল হাসান বলেন, আইনগতভাবে অর্থোপেডিক চিকিৎসক ছাড়া অন্য কেউ ইন্ট্রা আর্টিকুলার ইনজেকশন দিতে পারেন না। চিকিৎসক ভেদে এ ধরনের ইনজেকশন প্রয়োগে ১০০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়ে থাকে। তবে চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনৈতিকতা বন্ধে খুব শীঘ্রই মনিটরিং অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাধবপুর উপজেলার প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর চিকিৎসা সেবার বিষয়টি নিয়ে উপজেলা টএইচও’র সাথে আলোচনা করা হবে এবং খুব শীঘ্রই মনিটরিংয়ের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সাধারণ মানুষের দাবি, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। অথচ কিছু অসাধু চিকিৎসক ও ক্লিনিক মালিকদের কারণে চিকিৎসা সেবা এখন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষ এভাবে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হতে থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।