
সিকারি ডেস্ক:: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক গ্রেড বাড়িয়ে অষ্টম পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাই। এটা করব ধাপে ধাপে। সরকার ৪-১৩ বছর বয়সীদের জন্য বিনা বেতনে পড়াশোনা করাতে চায়। আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিত করা ছাড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা সম্ভব নয়।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘গণসাক্ষরতা অভিযান’ আয়োজিত শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ নিয়ে ‘শিক্ষা বাজেট: বাজেটের শিক্ষা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীরা খেলতে খেলতে শিখবে, গল্পের মাধ্যমে শিখবে। তবে এই কারিকুলামে আমরা তাড়াহুড়ো করব না। সবার সঙ্গে আলোচনা করে পরিকল্পিতভাবে হবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের ৬৫ হাজার স্কুলে কোনো নিরাপত্তা গার্ড নেই। এখন মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু করলে দেখা যাবে মাল্টিমিডিয়ার তার খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাই আমরা শিক্ষার মূল থেকে ধরে ধরে সমস্যা সমাধান করতে চাই। বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখানোর কাজ শুরু হচ্ছে।
কোচিং-নোট গাইড বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ সভায় শিক্ষায় বাজেট বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে গণসাক্ষরতা অভিযান। তাদের স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, জাতীয় বাজেটে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে শিক্ষাখাতে জিডিপির অন্তত ২.৫ শতাংশ অথবা জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষার জন্য বিনিয়োগ করতে হবে। এছাড়া, সরকারের প্রথম তিন অর্থবছরে জিডিপি’র ৫ শতাংশ এবং পর্যায়ক্রমে ৫ বছরের মধ্যে ৬ শতাংশে উন্নীত করার রূপরেখা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।
এ ক্ষেত্রে সংস্থাটির পরামর্শ হলো, বাজেট ঘাটতি পূরণে করপোরেট সোশ্যাল রেস্পন্সিবিলিটির (সিএসআর) ৩০ শতাংশ ব্যবহার ও ‘এডুকেশন চেস’ চালু করা যেতে পারে। ভারতে ‘এডুকেশন চেস’ প্রবর্তন করে লক্ষাধিক কোটি টাকার ‘শিক্ষা সহায়তা তহবিল’ গঠন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে তাদের শিক্ষা বাজেটের অনেক ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।
গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।