
সিকারি ডেস্ক:: সিলেট শহরতলীর খাদিমপাড়া এলাকার মর্ডান গেইটে এক সবজি ব্যবসায়ীর গাড়ি আটকে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় অপকর্মে বাধা দেওয়ায় উল্টো সিলেট সদর উপজেলা যুবদলের এক নেতার ওপর হামলার চেষ্টা চালায় অভিযুক্তরা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার (২৪ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এক আড়তদার গোয়াইনঘাট বাজার থেকে দেশীয় টমেটো সংগ্রহ করে লেগুনাযোগে সিলেটের কাঁচাবাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তামাবিল মহাসড়কের খাদিমপাড়া মর্ডান গেইট এলাকায় পৌঁছালে একদল যুবক গাড়িটির গতিরোধ করে। অভিযোগ রয়েছে, নিজেকে সিলেট জেলা ছাত্রদলের অনুসারী পরিচয়ে ফাহিমুর রহমান নামের এক যুবকের নেতৃত্বে ওই ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করে এবং টমেটো বোঝাই লেগুনাটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়।
এদিকে এসব বিষয়ে কিছু জানেন না বলে সাফ জানিয়েছেন শাহপরাণ (রহ.) ওসি ফেরদৌস আহমেদ। তবে তিনি খোঁজ নিচ্ছেন কিংবা এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি ক্রাইম সিলেটকে জানান।
রাস্তায় এমন চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের দৃশ্য দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে আসেন সিলেট সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছালেক আহমদ খালেদ এবং খাদিমপাড়া ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দল নেতা ইসলাম উদ্দিন শাহানসহ ৪-৫ জন। তারা ব্যবসায়ীর পক্ষ নিয়ে এই অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং অভিযুক্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফাহিমুর রহমানের নেতৃত্বে থাকা যুবকরা উল্টো যুবদল নেতা সিলেট সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছালেক আহমদ খালেদের ওপর চড়াও হয় এবং তাকে মারধরের চেষ্টা চালায়।
ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে রাতের অন্ধকারে রাস্তায় ব্যাপক হট্টগোল, তর্কাতর্কি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়। স্থানীয় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা জানান, ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এবং সিলেট সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছালেক আহমদ খালেদকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত নামধারী ছাত্রদল নেতা ফাহিমুর রহমান ঘটনার খণ্ডিত একটি ভিডিও তার নিজ ফেসবুক আইডিতে আপলোড করে। তবে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেছেন যে, মূলত চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ার কারণেই এই হট্টগোলের সৃষ্টি হয় এবং উল্টো প্রতিবাদকারী যুবদল নেতাকেই হেনস্তা করা হয়েছে।
প্রকাশ্যে এমন চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীরা জানান, দলীয় নাম ভাঙিয়ে যারা এমন অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে, তারা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। অবিলম্বে এসব চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।