• ১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জৈন্তাপুরে তিন মাসের অ*ন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃ*ত্যু, নি*র্যাতনের অভিযোগ বাবার

sylhetcrimereport
প্রকাশিত জুলাই ১১, ২০২৬
জৈন্তাপুরে তিন মাসের অ*ন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃ*ত্যু, নি*র্যাতনের অভিযোগ বাবার

সিকারি ডেস্ক::  সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়নের রুপচেং উত্তর মহল্লায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ ফারজানা আক্তার শিমু (২১)-এর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী ও শাশুড়িকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতের বাবা কামরুজ্জামান সেলিম আহমদ জানান, প্রায় ছয় মাস আগে রুপচেং উত্তর মহল্লার রাসেল আহমদের সঙ্গে তার মেয়ে শিমুর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে পারিবারিক কলহ চলছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।তিনি আরও জানান, গত ৬ জুলাই শিমুকে তার স্বামী ও শাশুড়ি চিকিৎসার জন্য জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে উভয় পক্ষের অভিভাবকদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হলে শিমু অসুস্থ অবস্থায় বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসা করিয়ে গত ১০ জুলাই বিকেলে তাকে আবার শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দেন।

নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার (১১ জুলাই) সকাল প্রায় সাড়ে ৯টার দিকে শিমুর স্বামী রাসেল আহমদ ফোন করে জানান, শিমু ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। পরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জৈন্তাপুর মডেল থানাকে অবহিত করলে পুলিশ হাসপাতালে এবং পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে রুপচেং এলাকায় রাসেল আহমদের বসতঘরের শয়নকক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফারজানা আক্তার শিমু আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। মৃতের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল বলেও প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”