গ্রেপ্তার এড়িয়ে তামাবিলে প্রকাশ্যে লীগ নেতা জালাল: পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ, জিম্মি স্থলবন্দর

sylhetcrimereport
প্রকাশিত September 8, 2026
গ্রেপ্তার এড়িয়ে তামাবিলে প্রকাশ্যে লীগ নেতা জালাল: পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ, জিম্মি স্থলবন্দর

সিকারি ডেস্ক:: আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকলেও তামাবিল স্থলবন্দরে তার অনুসারীদের রাজত্ব ও সিন্ডিকেট প্রভাব এখনো রয়েছে অপরিবর্তিত। সাবেক মন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন একাধিক হত্যা ও সহিংসতার মামলার এজাহারনামীয় আসামি হওয়া সত্ত্বেও প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের সাথে গোপন সখ্য ও রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে তিনি পুরো স্থলবন্দর এলাকাকে জিম্মি করে রেখেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন তামাবিল স্থলবন্দরের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকার সুবাদে জালাল উদ্দিন একটি বিশাল প্রভাব বলয় গড়ে তোলেন। পটপরিবর্তনের পরও সেই শক্তিশালী নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে তিনি বন্দরের যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন। কাগজে-কলমে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও বাস্তবে সীমান্ত কেন্দ্রিক বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির মতো কার্যক্রম তার একক নির্দেশেই পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে ও স্থানীয়দের তথ্য মতে, জালাল সিন্ডিকেটের অসাধু তৎপরতায় তামাবিল মহাসড়কের পাশে হাজার হাজার ট্রাক পাথর অবৈধভাবে ডাম্পিং করে রাখা হচ্ছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে প্রতিদিন তীব্র যানজট ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কতিপয় সদস্যকে অনৈতিক সুবিধায় ‘ম্যানেজ’ করে এই অবৈধ সাম্রাজ্য চালানো হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

একাধিক মামলার আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো এবং বন্দরজুড়ে সিন্ডিকেটের অরাজকতা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো ভূমিকা না থাকায় তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে জৈন্তাপুর ও তামাবিল এলাকার সচেতন মহল ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের মাঝে। অবিলম্বে এই রাজনৈতিক সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দিয়ে আসামি জালাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তামাবিল স্থলবন্দরে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।