কমলগঞ্জে কিশোরীকে জিম্মি করে ধর্মান্তর ও ধর্ষণের অভিযোগ

sylhetcrimereport
প্রকাশিত November 3, 2026
কমলগঞ্জে কিশোরীকে জিম্মি করে ধর্মান্তর ও ধর্ষণের অভিযোগ

সিকারি ডেস্ক:: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে জিম্মি করে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত, বিয়ে ও ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলার প্রধান আসামি লক্ষ্মীকান্ত বাউরীসহ অন্যদের গ্রেপ্তার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শককে (এসআই) প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় আলেম-ওলামারা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় উপজেলার শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির সামনে ‘ইমাম-মুয়াজ্জিন ঐক্য পরিষদ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব দাবি তোলা হয়।

সংগঠনের সভাপতি মাওলানা হেলাল আহমদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আনিছুল ইসলাম চৌধুরী শাকেরের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে স্থানীয় আলেম-ওলামা ও ইমামরা বক্তব্য দেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে জিম্মি করে ধর্মান্তরিত, জোরপূর্বক বিয়ে ও ধর্ষণের অভিযোগ অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা যেন কোনোভাবেই পার পেয়ে না যায়, সে জন্য প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বক্তারা প্রধান আসামিসহ জড়িত সবাইকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জসিম উদ্দিনকে প্রত্যাহার এবং ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবারের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি জানান।

মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের ডবলছড়া চা বাগানের নিজ বাড়ি থেকে ওই কিশোরী নিখোঁজ হয়। ওই সময় অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজের পর থেকে কিশোরীকে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত, বিয়ে ও ধর্ষণ করা হয়। নিখোঁজের প্রায় ১০ মাস পর গত ২৯ অক্টোবর একই এলাকার মৃত রবি চন্দ্র বাউরীর ছেলে লক্ষ্মীকান্ত বাউরীর বাড়ি থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় লক্ষ্মীকান্ত বাউরীকে প্রধান আসামি করে কমলগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগীর পরিবার।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কমর উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে এবং ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।