• ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইরান–মার্কিন উত্তেজনায় দুবাই বিমানবন্দরে প্রতি মিনিটে প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার লোকসান: ক্যাপ্টেন আবদুল্লাহ

sylhetcrimereport
প্রকাশিত মার্চ ১৩, ২০২৬
ইরান–মার্কিন উত্তেজনায় দুবাই বিমানবন্দরে প্রতি মিনিটে প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার লোকসান: ক্যাপ্টেন আবদুল্লাহ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষক ক্যাপ্টেন আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও হামলার আশঙ্কার কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (DXB) এবং আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (DWC) আংশিকভাবে বন্ধ বা সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে।
ক্যাপ্টেন আবদুল্লাহ জানান, আকাশপথে সম্ভাব্য ড্রোন হামলা, জাহাজে আক্রমণের আশঙ্কা এবং সামরিক উত্তেজনার কারণে অনেক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ফ্লাইট বাতিল বা রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ট্রানজিট হাব দুবাই বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, কার্গো ও ট্রানজিট কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় দুবাই ও আবুধাবির বিমানবন্দরগুলো প্রতি মিনিটে প্রায় ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনছে। ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর ওয়ার্ল্ড–এর মার্চ ২০২৬ সালের এক বিশ্লেষণেও এ তথ্য উঠে এসেছে।
ক্যাপ্টেন আবদুল্লাহর মতে, দুবাই বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হওয়ায় প্রতিদিন লাখো যাত্রী এখানে ট্রানজিট নেয়। কিন্তু ফ্লাইট বাতিল ও সীমিত অপারেশনের কারণে যাত্রী পরিবহন, কার্গো সেবা, এয়ারলাইন ফি, পার্কিং চার্জ ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন উৎস থেকে আয় কমে গেছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদার, জরুরি অপারেশন ও বিকল্প রুট ব্যবস্থাপনায় ব্যয়ও বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে ইরানের পক্ষ থেকে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার তথ্য পাওয়া গেছে এবং দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকেও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দুবাইয়ের আর্থিক জেলাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
ক্যাপ্টেন আবদুল্লাহ সতর্ক করে বলেন, এই উত্তেজনার কারণে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচলই নয়, বৈশ্বিক ভ্রমণ ও কার্গো পরিবহন ব্যবস্থাও বড় ধরনের বিঘ্নের মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি, সার ও খাদ্যপণ্য পরিবহনেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিমান চলাচল খাত দুবাইয়ের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হওয়ায় পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।